ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১২:৩৮:১৫ PM

হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় লাভক্ষতি

ইরা সাদিয়া ,অষ্ট্রেলিয়া থেকে মতামত কলাম
07-08-2026 11:56:36 AM
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় লাভক্ষতি

উপস্থাপিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণাকে কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ভারতের একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ভারত শেখ হাসিনাকে অপেক্ষায় রেখেছিল এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনাও পর্যবেক্ষণ করছিল। বিশেষ করে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক তৎপরতা নিয়ে ভারতের আগ্রহ থাকলেও, চীন সফরের পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে ভারত পুনরায় শেখ হাসিনাকেই কেন্দ্র করে তাদের কৌশল সাজিয়েছে—এমন মত প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে বোঝানো হয়েছে—বাংলাদেশে ফিরে এলেও তাঁর বিরুদ্ধে যদি মৃত্যুদণ্ডের মতো কোনো রায় হয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই রায় কার্যকর হওয়ার বিরুদ্ধে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে এনে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি আশ্বাস ভারত দিয়েছে বলে এই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য দুই ধরনের পরিস্থিতিই ভারতের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। যদি আদালতের রায় কার্যকর না হয়, তবে সেটিকে ভারতের একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে, যদি রায় কার্যকর হয়, তবে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আবেগ, সহানুভূতি এবং প্রতিশোধের রাজনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা হতে পারে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে যেমন একটি আবেগনির্ভর রাজনৈতিক বর্ণনা তৈরি হয়েছিল, তেমনি নতুন একটি “শহীদতত্ত্ব” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে শেখ হাসিনা জীবিত থাকুন বা না থাকুন—উভয় পরিস্থিতিকেই ভারতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরও ভারত বাংলাদেশের প্রতি তাদের পূর্বের প্রভাব বিস্তারের নীতি থেকে সরে আসেনি। বরং বাংলাদেশকে একটি পূর্ণ স্বাধীন প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং নিজেদের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান—এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ভারত শেখ হাসিনাকে এই বিশ্বাস দিতে সক্ষম হয়েছে যে বাংলাদেশে ফিরে এলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এই কারণে শেখ হাসিনা সেই আশ্বাসে আস্থাশীল হয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, দেশে এখনো আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সমর্থক সক্রিয় বা সম্ভাব্যভাবে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই সমর্থকদের ডিজিটাল ও সাংগঠনিকভাবে পুনরায় সক্রিয় করার পাশাপাশি অর্থায়ন, সাংগঠনিক সহায়তা এবং অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি বা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত ঘটনা কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলোও সম্ভাব্য কৌশলের অংশ হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কিছু গণমাধ্যম, প্রশাসনের পুরোনো নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একটি অংশও এ ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসে ভূমিকা রাখতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে—যদিও এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকের দাবি ও মতামতের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, এবং এগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ এখানে উপস্থাপন করা হয়নি।