ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৪:৩৬:৫০ PM

নারায়ণগঞ্জের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
24-09-2026 02:47:28 PM
নারায়ণগঞ্জের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদের বিরুদ্ধে তাঁর বাবা মামুনুর রশীদের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে একের পর এক সরকারি কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে পাউবোর একটি সেচ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করেছে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন সদস্যের দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম দাউদপুর ইউনিয়নের সেচ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাই করা হয়।

দুদকের নারায়ণগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো তিন সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম রূপগঞ্জের দাউদপুরে সেচ প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। এর আগে দুদকের কর্মকর্তারা রাজধানীর মতিঝিলে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদের পিতা মামুনুর রশীদের নামে এই জোনে অন্তত সাতটি কাজ হয়েছে এবং এসব কাজের বিপরীতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে নথিপত্রে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর পিতার ঠিকাদারি কার্যক্রম চলমান থাকা বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাঁদের কাজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের প্রকৃতি যাচাই করতে শুধু নথিপত্র পর্যালোচনাই নয়, প্রকল্পের বাস্তব চিত্রও দেখা হচ্ছে। কাজের অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, বিল উত্তোলন, কাজের গুণগত মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা-এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বাধীন এলাকায় তাঁর নিকটাত্মীয়ের ঠিকাদারি কার্যক্রম থাকলে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তদারকির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দরপত্র ও প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত ভূমিকা যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হবে।

নথি সূত্রে জানা গেছে, শুভ আহম্মেদ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রূপগঞ্জের সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর দায়িত্ব পালনের তথ্য নথিপত্রে এসেছে। ২০২৫ সালে রূপগঞ্জের অগ্রণী সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খাল দখলের অভিযোগে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়ার বিষয়েও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জুনে রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা খাল উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে তাঁর তত্ত্বাবধানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের তদন্তে এবার সেই পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই বিভিন্ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাবার নামে ঠিকাদারি কাজের তথ্য সামনে এল। ফলে এই সাতটি কাজ কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, কাজগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতটুকু, উত্তোলিত অর্থের বিপরীতে কাজের মান ও পরিমাণ যথাযথ ছিল কি না এবং এতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর দুদকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

পরিদর্শনকালে দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা, উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদ কিংবা তাঁর বাবা মামুনুর রশীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।