ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১১:০১:৪৫ PM

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এনির সঙ্গে পদবঞ্চিতদের সাক্ষাৎ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
10-07-2026 09:43:24 PM
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এনির সঙ্গে পদবঞ্চিতদের সাক্ষাৎ

গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পদবঞ্চিত যুবদল নেতৃবৃন্দ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ধানমন্ডির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা সদ্য ঘোষিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও অসন্তোষের বিষয় তুলে ধরেন। সাক্ষাতে পদবঞ্চিত নেতারা অভিযোগ করেন, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত অনেক নেতাকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। তাদের পরিবর্তে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত ও বিতর্কিত বলে অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও জানান, তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, সম্প্রতি যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দায়-দায়িত্ব প্রশ্নে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই আলোচনায় কয়েকজন সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতার নামও উঠে আসে, যাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেন। এতে সভায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সভাটি পণ্ড বা স্থগিত হয়ে যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।

পদবঞ্চিত নেতারা দাবি করেন, কমিটিতে যেসব ব্যক্তি বিতর্কিত, অযোগ্য অথবা অনৈতিক উপায়ে পদ লাভ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের পরিচয় ও পদবি প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানানো উচিত।

সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই করে অনিয়মের মাধ্যমে পদপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডের নজরে রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সমস্যাটির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে দলীয়ভাবে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন: ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল ও জাকির হোসেন খান; যুবদলের সাবেক গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার; ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান; যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক; ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান সোহাগ; সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম, ইসমাইল হোসেন খান শাহীন, মুজাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আরিফ, আনোয়ার জাহিদ ও সুমন চৌধুরী; সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার, গোলাম আজম সৈকত, সবুর খান সাগর, জাহাঙ্গীর আলম ও শফিউল আজম; সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মিরাজ আজিম; সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক স্বপন মণ্ডল; সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম ও রবিউল হাসান আরিফ; খন্দকার আমিনুল হক কাকন; নজরুল ইসলাম নাহিদ; ফরিদ খান; মহিবুল্লাহ জয়; খলিলুর রহমান জনি; শরিফ আল ফরহাদ দীপু; ফজলুল হক নিরব; রাকিবুল ইসলাম রোকন; ইয়াকুব রাজু; বিশ্বজিৎ ভদ্র; এম কামরুল হাসান; মাহমুদ খান; দুলাল মাতব্বর; খসরু আহমেদ হিরন; সেলিম রেজা; মাসুদ রানা; মানিক হোসেন; এমদাদুল হক পারভেজ; ইমদাদুল হক; জাহিদুল ইসলাম হিরন; নজরুল ইসলাম; মহিউদ্দিন বেগ সুজন; জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন; কবির আহমেদ; আমির হোসেন বাদশা; হাসান জাহিদ হিরনসহ আরও অনেকে।