ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০১:৪৫:০৪ PM

মানবাধিকার কর্মী আইরিন খাঁন

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
11-07-2026 12:23:45 PM
মানবাধিকার কর্মী আইরিন খাঁন

সিলেটের কৃতি সন্তান ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকর্মী আইরিন খাঁন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়োগকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সিলেটবাসী ও দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।

আইরিন খাঁন সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সিকান্দার আলী খাঁনের মেয়ে। তিনি সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল মাহবুব আলী খাঁনের ভাতিজি এবং ডা. জুবাইদা রহমানের চাচাতো বোন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মানবাধিকার, শরণার্থী সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

আইরিন খাঁনের কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির মহাসচিব ছিলেন এবং এই পদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম এশীয় নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে যোগদানের আগে আইরিন খাঁন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এ প্রায় ২১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি সংস্থাটির সদর দপ্তরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং সংঘাতকবলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁর অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে।

শিক্ষাজীবনেও আইরিন খাঁন ছিলেন অত্যন্ত কৃতী। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুলে আইন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর একাডেমিক দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন দক্ষ আইনবিদ, নীতিনির্ধারক এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে আইরিন খাঁন মর্যাদাপূর্ণ ‘সিডনি শান্তি পুরস্কার’ লাভ করেন। নারী, শিশু, শরণার্থী এবং নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিরলস কাজ তাঁকে বিশ্বব্যাপী সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। এছাড়া তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর নিয়োগ দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং মানবাধিকার বিষয়ে গভীর জ্ঞান বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিলেটের এই কৃতি কন্যার এমন অর্জনে সিলেটবাসীসহ সমগ্র দেশের মানুষ আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর নতুন দায়িত্ব সফলভাবে পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও মর্যাদা ও সাফল্য অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশা সবার। তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।