ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৯:৩৬:৩৪ PM

ওয়াসার ওয়াটার এটিএম নিয়ন্ত্রণে মিনহাজ চৌধুরী

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
11-08-2026 07:50:39 PM
ওয়াসার ওয়াটার এটিএম নিয়ন্ত্রণে মিনহাজ চৌধুরী

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড)-এর সঙ্গে চুক্তি, প্রকল্প পরিচালনা ও সম্ভাব্য চুক্তি নবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উন্মুক্ত দরপত্র ও সরকারি ক্রয়নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘদিন প্রকল্প পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনরায় চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রিঙ্কওয়েলের কো-ফাউন্ডার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিনহাজ চৌধুরীকে ঘিরেও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। একইভাবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমতিয়াজ মোহাম্মদ মোহসিনের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ড্রিঙ্কওয়েল ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের কাজ পায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার চুক্তি বাতিল হয়নি। বরং নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) কিংবা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে ওয়াসার উদ্যোগে ২৯৪টি ওয়াটার এটিএম বুথ স্থাপন করা হয়েছে। বুথগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে করা হলেও পানি বিক্রির আয় বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গত প্রায় নয় বছরে ড্রিঙ্কওয়েল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করেছে, বিপরীতে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে ওয়াসার ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ।

এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসা ভবনে ড্রিঙ্কওয়েলের ব্যবহৃত অফিসকক্ষের ভাড়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাজারদর অনুযায়ী ওই অফিসের মাসিক ভাড়া প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। সে হিসাবে দীর্ঘ সময়ে ওয়াসার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টিও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক কাঠামো ছিল পিপিপি মডেলের। চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াসা বুথের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করবে এবং ড্রিঙ্কওয়েল অটোমেশন, ফিল্ট্রেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট কার্ড ও পরিচালন কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করবে। বিক্রয়লব্ধ আয় নির্ধারিত অনুপাতে উভয় পক্ষের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা ও রাজস্ব অর্জন নিয়ে ওয়াসার অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও প্রশ্ন ওঠার কথা জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রত্যাশিত রাজস্ব অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি পিপিপি ও ক্রয়নীতিতে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং বাজার যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ড্রিঙ্কওয়েলকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব শর্ত কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নতুন একটি ওয়াটার এটিএম মডেল নিয়ে ড্রিঙ্কওয়েলকে পুনরায় সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত মডেলে বুথ নির্মাণের পুরো ব্যয় ঢাকা ওয়াসা বহন করবে বলে জানা গেছে। এতে প্রকল্পের আর্থিক দায়ভার আবারও সরকারি সংস্থার ওপর পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা ড্রিঙ্কওয়েলের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা বা উপঢৌকন পাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে ড্রিঙ্কওয়েলের কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়েও অসন্তোষের অভিযোগ রয়েছে। ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে কর্মীদের ওয়াসা ভবনের সামনে মানববন্ধন করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড্রিঙ্কওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি, চুক্তির শর্ত, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।