ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১০:৫১:৪৭ PM

ডিএনসিসি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
16-08-2026 07:57:55 PM
ডিএনসিসি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী-১ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খন্দকার মাহবুব আলমকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, পদোন্নতিতে প্রভাব, উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও কাজ বণ্টনে হস্তক্ষেপ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি।

ডিএনসিসির সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার মাহবুব আলম বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী-১ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ১১ মার্চ থেকে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাহবুব আলমের ক্যারিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে তাকে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হন—এমন দাবিও রয়েছে। এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তার পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলেও ডিএনসিসির কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই স্মারকলিপিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলমের নামও ছিল। অভিযোগকারীরা দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদার নিয়োগে ভূমিকা রেখেছেন।

মাহবুব আলমকে ঘিরে ওঠা আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো ডিএনসিসির বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টনে প্রভাব বিস্তার। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ডিআরএসপি প্রকল্পের প্রায় ৮২২ কোটি টাকার কাজের মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কাজ আওয়ামী লীগপন্থী বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচিত ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে। দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে মাহবুব আলম প্রভাব বিস্তার করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে তার সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও দোকান রয়েছে এবং দুটি দামি গাড়িও রয়েছে। এমনকি একটি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য এবং অর্থের উৎস যাচাই করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘুষ লেনদেন, অর্থের পরিমাণ বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোকে তদন্তসাপেক্ষ দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

ডিএনসিসির বিভিন্ন নথি ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাহবুব আলমকে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল দায়িত্বে থাকার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে মেয়র আতিকুল ইসলামের একটি অনুষ্ঠানে তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পান।

অভিযোগের বিষয়ে মাহবুব আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও WhatsApp-এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, সম্পদের উৎস, প্রকল্পে তার ভূমিকা এবং পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।