ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৫:২২:০৬ PM

পদ নয়, মানুষের ভালোবাসাই যার শক্তি

মান্নান মারুফ
19-08-2026 03:27:37 PM
পদ নয়, মানুষের ভালোবাসাই যার শক্তি

রাজনীতিতে অর্থ, পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব; কিন্তু মানুষের ভালোবাসা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দল ও দেশের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আনুগত্য, ত্যাগ এবং সংগ্রামের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনের সূচনা দেশপ্রেমের চেতনা থেকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তাঁর রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকেনি। দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অধ্যায়জুড়ে রয়েছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন। দলের নীতি,আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি তাঁর এই দীর্ঘস্থায়ী আনুগত্য তাঁকে দলের প্রবীণ নেতাদের অন্যতম করে তুলেছে।

বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সক্রিয় ও সামনের সারির নেতা হিসেবে দেখা গেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি একাধিকবার নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানীর রাজপথে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। একজন প্রবীণ রাজনীতিককে রাজপথে এভাবে নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁর রাজনৈতিক মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি।

বয়স ও নানা প্রতিকূলতার পরও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু দলীয় রাজনীতিই করেননি; এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনদরদি ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য যে ত্যাগ, সহনশীলতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবন তারই একটি দৃষ্টান্ত। ক্ষমতা বা পদ-পদবির চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন—এমনটাই মনে করেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেই বিবেচনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বহু অধ্যায়ের সাক্ষী তিনি।

সব মিলিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবনকে শুধু পদ-পদবির হিসাব দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়—তাঁর রাজনৈতিক পথচলার মূল পরিচয় ত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসাই, তাঁর সমর্থকদের ভাষায়, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।