(সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল ও গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড)
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি যেমন ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন, তেমনি বিরোধী দলের শক্ত ভিত গঠনেও অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। এই অধ্যায় শুধু রাজনৈতিক কৌশলের নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি স্থাপনের প্রতীক।
নির্বাচনের পর পরিস্থিতি
নির্বাচনের ফলাফলের পর বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না। সরকার গঠনে ক্ষমতাসীন দল অন্যদিকে, বিরোধী দলের ভূমিকা ছিল সংবিধানগত এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেগম খালেদা জিয়া জানতেন—শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়, বিরোধী দলকে শক্তিশালী করা দেশের গণতন্ত্রকে অটল রাখে।
দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি কার্যক্রম শুরু করলেন। লক্ষ্য ছিল—সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা যেন কেবল নিন্দা বা প্রতিবাদের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের নীতি প্রণয়নে সদস্যদের শক্তিশালী অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
শক্ত ভিত্তি গঠনের উদ্যোগ
বিরোধী দলকে শক্ত করতে তিনি নেয়া প্রথম পদক্ষেপ ছিল দলের অভ্যন্তরীণ একতা। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলীয় সিনিয়র নেতারা নিয়মিত বৈঠক করতেন। তিনি সবসময় বলতেন,
“যদি আমরা ভেতরে একতা হারাই, বাইরে জনগণ আমাদের বিশ্বাস হারাবে। বিরোধী দলের শক্তি হলো দেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড।”
দলের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পুনর্গঠন করা হলো। সাংসদদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার উপর দৃষ্টি—সবকিছু নিশ্চিত করা হলো। এতে সদস্যরা শুধু কণ্ঠই নয়, নৈতিক ও রাজনৈতিক জ্ঞানেও শক্তিশালী হয়ে উঠলেন।
সংবিধান ও প্রক্রিয়ার শিক্ষা
সংসদে বিরোধী দল শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, নীতিনির্ধারণে যুক্ত থাকার অধিকার রাখে। খালেদা জিয়া সাংসদদের শেখালেন—প্রতিটি আইন, প্রতিটি বাজেট, প্রতিটি নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণ করতে হবে।
“আপনাদের বক্তব্য এবং বিশ্লেষণ জনগণের আশা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে গেলে দেশের সুশাসন নিশ্চিত হবে,” তিনি বারবার বলতেন।
এভাবে বিএনপি বিরোধী দলের সদস্যরা শক্ত ভিতে আবদ্ধ হয়ে উঠল। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেও, তারা কেবল নিন্দার জন্য নয়, দেশের স্বার্থে যুক্তি ও প্রমাণ নিয়ে দাঁড়াত।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রসার
বিরোধী দলের শক্ত ভিত শুধুমাত্র সংসদে নয়, দেশের রাজনীতি ও জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রসার ঘটাল। লোকসভা, ওয়ার্ড কমিটি, ছাত্রদল ও যুবদলের সক্রিয়তা বেড়ে গেল। শিক্ষার্থী, নারী এবং যুবসমাজ বুঝল—বিরোধী দল শুধু ক্ষমতার বিরোধী নয়; তারা দেশের নীতিনির্ধারণে সমন্বয়কারী শক্তিও।
এক শিক্ষক বলেছিলেন,
“আজ আমরা দেখছি, বিরোধী দলও দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ। তারা শুধু প্রতিবাদ নয়, সমাধানও দেয়।”
শক্ত ভিত ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল মানে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এটি সরকারের ভুল বা দুর্নীতি চিহ্নিত করে, নীতি-প্রণয়নে সমন্বয় নিশ্চিত করে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এই দায়িত্ব পালন করল নিখুঁতভাবে।
এক সাংবাদিক মন্তব্য করেছিলেন,
“বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিরোধী দল কেবল রাজনৈতিক শক্তি নয়, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি। এই দল দেশের সুশাসন ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক।”
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ
বিরোধী দলের শক্ত ভিত গঠন শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে দৃঢ় করল। বিদেশি কূটনীতিক ও সংস্থাগুলি দেখল, বাংলাদেশে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষায় সক্রিয়। এটি দেশের চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী করল।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
গ্রামে, শহরে, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—সবত্রেতেই মানুষ এই দৃঢ় নেতৃত্ব এবং বিরোধী দলের শক্ত ভিতের প্রশংসা করল। তারা বলল,
“যে দেশ তার বিরোধী দলকেও শক্তিশালী করে, সেই দেশের গণতন্ত্র অটল। আমরা এখন বুঝেছি, আমাদের কণ্ঠের গুরুত্ব কেবল নির্বাচনে নয়, সংসদেও।”
নারীরা বললেন,
“এভাবে নারী নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক সংহতি দেশের স্থায়ী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ইতিহাসের শিক্ষা
বিরোধী দলের শক্ত ভিত কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি গণতান্ত্রিক মেরুদণ্ডের প্রতীক।
- এটি দেখায় যে গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের ভোট দিয়ে নয়, বরং সংসদীয় অংশগ্রহণ এবং নৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে শক্তিশালী হয়।
- এটি নতুন প্রজন্মের নেতা এবং নাগরিকদের শিক্ষা দেয়—বিরোধী দলকেও দেশের স্বার্থে শক্তিশালী হতে হবে।
- এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে।
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিরোধী দলের শক্ত ভিত গঠন শুধু রাজনীতি নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের মেরুদণ্ড স্থাপন।
এটি প্রমাণ করে, যে নেতা দেশের স্বার্থ, ন্যায়পরায়ণতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে, তার নেতৃত্বে দেশ কেবল স্থিতিশীল নয়, সমৃদ্ধিও পায়।
বিরোধী দলের শক্ত ভিত দেশের মানুষের আস্থা, সরকারের সততা, এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের প্রতীক হয়ে ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।
চলবে……..