ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৭:০৬:৫৪ AM

শোকের মহাকাব্য- পর্ব–২৪

মান্নান মারুফ
09-01-2026 12:06:09 PM
শোকের মহাকাব্য- পর্ব–২৪

(সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন)

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো নারী শিক্ষা ক্ষমতায়ন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি শুধু দেশের অর্থনীতি বা অবকাঠামো উন্নয়নে নয়, নারীর সম্ভাবনা, শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

প্রেক্ষাপট

১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুতে বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা কর্মসংস্থান অনেকাংশে সীমিত ছিল। গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা প্রায়শই পরিবার সামাজিক বিধিবদ্ধতার কারণে স্কুলে যেতে পারত না। নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কম অংশগ্রহণ করছিলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে উপস্থিতি সীমিত।

খালেদা জিয়া জানতেনদেশের অগ্রগতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে নয়, নারী শিক্ষার প্রসার ক্ষমতায়নের সঙ্গে জড়িত। তিনি বিশ্বাস করতেন, যেখানে নারী শিক্ষিত, আত্মনির্ভর এবং সক্রিয়, সেখানেই দেশ সামাজিক রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়।

শিক্ষার প্রসার

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হলো, যার মাধ্যমে নারীর জন্য শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়।

  1. বিদ্যালয় কলেজে বৃত্তি: সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তি প্রকল্প চালু হয়। এতে গ্রামের মেয়েরা শিক্ষার পথে এগোতে পারে।
  2. স্কুল স্থাপনা: নতুন বিদ্যালয় কলেজ নির্মাণ, বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে। যাতে নারীরা নিরাপদ মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পায়।
  3. শিক্ষক প্রশিক্ষণ: নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং মানসম্মত পাঠ্যক্রম প্রবর্তন।

গ্রামের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন,
আমরা দেখছি, মেয়েরা এখন শুধু স্কুলে যাচ্ছে না, তারা স্বপ্ন দেখছেপড়াশোনা করে সমাজে অবদান রাখার স্বপ্ন।

নারী ক্ষমতায়ন

শিক্ষার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান অসামান্য।

  • নারী কর্মসংস্থান: তৈরি পোশাক শিল্প, হস্তশিল্প, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
  • স্বনির্ভরতা: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম।
  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: স্থানীয় সরকার, সংসদ এবং দলীয় কাঠামোতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।

এক যুবতী উদ্যোক্তা বলেছিলেন,
প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেখিয়েছেন, নারী শুধু ঘরের কাজের জন্য নয়; তারা দেশের অর্থনীতি সমাজের উন্নয়নে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে।

সামাজিক পরিবর্তন

নারী শিক্ষা ক্ষমতায়নের ফলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে শুরু করে। পূর্বে যেসব পরিবার মেয়েদের পড়াশোনাকে তুচ্ছ মনে করত, তারা এখন মেয়েদের শিক্ষিত হওয়া এবং স্বনির্ভর হওয়া একটি গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছে।

গ্রামের একজন মা বললেন,
আমার মেয়ের স্কুলে যাওয়া আমাদের পরিবারে আনন্দের কারণ, এবং আমরা চাই সে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করুক।

নারী ক্ষমতায়নের ফলে বাল্যবিবাহ হ্রাস, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার সমাজে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসব মিলিয়ে দেশ এগোয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

খালেদা জিয়ার উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।

  • শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প: আন্তর্জাতিক পুরস্কার সহায়তা লাভ।
  • নারী নেতৃত্ব: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নারী ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশের সফল উদাহরণ উপস্থাপন।

জনমত প্রভাব

শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষার্থী থেকে উদ্যোক্তা, নারী থেকে পুরুষসবাই খালেদা জিয়ার এই উদ্যোগের প্রশংসা করছিল। তারা বলছিল,
নারীর শিক্ষিত সক্রিয় হওয়া দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী এই পথে আমাদের দেখিয়েছেন।

নারীরা বললেন,
এখন আমরা শুধু স্বপ্ন দেখি না, সেই স্বপ্ন পূরণে নিজেদের সক্ষমও হচ্ছি। আমাদের স্বাধীনতা স্বনির্ভরতার সূত্রপাত হলো এই নীতিমালার মাধ্যমে।

রাজনৈতিক ঐতিহাসিক গুরুত্ব

নারী শিক্ষা ক্ষমতায়নের জন্য খালেদা জিয়ার কাজ কেবল সমাজিক উন্নয়ন নয়, রাজনীতিতেও নৈতিক দৃঢ় নেতৃত্বের উদাহরণ

  • এটি দেখায়, একজন নেতা দেশের সমস্ত নাগরিকের সুযোগ স্বার্থের কথা চিন্তা করে।
  • এটি প্রমাণ করে, নারীর ক্ষমতায়ন শিক্ষা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মেরুদণ্ড।
  • ইতিহাসের পাতা প্রমাণ করে, যেখানে নারী শিক্ষিত সক্রিয়, সেখানে দেশের গণতন্ত্র সামাজিক ন্যায় স্থায়ী হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষা ক্ষমতায়নের উদ্যোগ শুধু একটি নীতি নয়; এটি দেশের সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদায় স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

এই অধ্যায়ের শিক্ষা স্পষ্টনারীর শিক্ষা ক্ষমতায়ন দেশের শক্তি। একজন নেতা যদি দেশের নারী শিক্ষার স্বনির্ভরতার দিকে মনোনিবেশ করে, তবে দেশের উন্নয়ন গণতন্ত্র চিরস্থায়ী হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার এই কাজ নারী নেতৃত্ব, সামাজিক ন্যায় এবং গণতন্ত্রের চিরন্তন দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।

চলবে…………………