ঢাকা, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৩:৩১:১৭ PM

জানুয়ারিজুড়ে দেশে থাকবে শীতের দাপট

স্টাফ রিপোট।। দৈনিক সমবাংলা
03-01-2026 05:18:00 PM
জানুয়ারিজুড়ে দেশে থাকবে শীতের দাপট

মধ্য ডিসেম্বরেও শীতের আগমন নিয়ে সন্দিহান ছিল ঢাকাবাসী। কিন্তু হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে ঘর থেকে বের হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশায় সূর্যের দেখা নেই। কুয়াশায় মোড়া রাস্তাঘাট, দৃষ্টি আটকে যায় কয়েক মিটারের মধ্যেই- গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় সকালের দৃশ্যটা এমনই।ঢাকার সেগুন বাগিচায় এক রিকশা চালক বলেন, হঠাৎ করেই এমন ঠান্ডা পড়ছে যে সকাল সকাল বের হতে পারি না, হাত-পা জমে যায়, ক্ষ্যাপ মারতে কষ্ট হয়। ঢাকার সকালগুলো এখন অনেক ধীর। অফিসমুখী মানুষের মুখে জমা ঠান্ডা। রিকশা, বাস, প্রাইভেটকার সবই যেন একটু ধীরে চলে।শীতের সঙ্গে কুয়াশা যোগ হওয়ায় রাস্তার দৃশ্যমানতা সকালে কমে গেছে। অনেকে সকাল দেরিতে বের হচ্ছেন।
ফুটপাতের চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা কাপের পাশে জটলা বাড়ছে। শীত জমলে ঢাকায় চা দোকানই যেন ছোট সভাঘর হয়ে যায়, আর এখন ভোটের মাঠে এ জটলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।এ শীত কেমন? মাত্রা কি বেশি? আর সাধারণ শীতের ভিন্নতা কি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত? এমন প্রশ্ন নিয়ে রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের চরের ছোট-বড় গ্রাম পর্যন্ত দেখা গেছে একটা নতুন আবহাওয়ার গল্প।

ঢাকায় শীতের তীব্রতা কেবল কাগজে লেখা তাপমাত্রার নম্বরে সীমাবদ্ধ নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা ঘন হয়ে থাকে, সূর্যের আলোকে বাধা দেয়, আর শরীরে শীতের অনুভূতি সারাদিন বিরাজমান থাকে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাত–দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। কুয়াশার আধিক্য, সূর্যের আলো কম পাওয়া এবং হিমালয় পাদদেশের কনকনে শীতল বাতাসের প্রভাবে শীতের অনুভূতি তীব্র হবে।

কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কা রয়েছে।
জানুয়ারিতে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস। এ সময় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, কখনও কখনও দুপুর পর্যন্তও থাকতে পারে। কুয়াশার ব্যপ্তিকাল বেশি হওয়ায় সূর্যের আলো কম মিলছে, ফলে দিনের তাপমাত্রাও কম অনুভূত হচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়ছে।

কেন বাড়ছে শীত?
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাস, উর্ধ্বাকাশে শীতল বায়ুপ্রবাহ, সূর্যালোকের ঘাটতি, কুয়াশার দীর্ঘ উপস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ শীতকে আরও তীব্র করেছে। ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি সক্রিয় থাকলে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে সাধারণত শীত কিছুটা বেশি হয়। পাশাপাশি বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান কণা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘লা নিনা’ (খধ ঘরñধ) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জলবায়ু ঘটনা, যেখানে নিরক্ষীয় অঞ্চলের পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, যা এল নিনোর বিপরীত; এর ফলে শক্তিশালী বাণিজ্য বায়ু উষ্ণ জলকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয় এবং ঠান্ডা জল ওপরে উঠে আসে, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনে—সাধারণত দক্ষিণ এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশি বৃষ্টি এবং আমেরিকায় শুষ্কতা আনে।

তিনি বলেন, ঢাকাকে সাধারণত উষ্ণ অঞ্চল ধরা হলেও জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের কারণে রাজধানীতেও এবার শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

অতীতে সবচেয়ে তীব্র শীতের বছরগুলো
বাংলাদেশের ইতিহাসে কয়েকটি বছর সবচেয়ে বেশি শীতল হিসেবে চিহ্নিত, যার মধ্য ২০১৮ সাল। সে বছরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে যায় ২.৬ক্কঈ-এ, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন। ১৯৯৫ সালে ঢাকায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৬.৫ক্কঈ-এ, যা রাজধানীর জন্য বিরল শীতলতা হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রায়ই শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকারে দেখা গেলেও চলতি বছর জানুয়ারিজুড়ে দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের কিছু জেলাতেও শীতের প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।