ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ১০:৫২:৪২ PM

তরুণরাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে:জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
09-02-2026 09:12:22 PM
তরুণরাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে:জামায়াত আমির

তরুণ প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ হবে— এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ এখন আর পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায় না; তারা চায় বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ। আজকের তরুণরা বাংলাদেশ ২.০–এর স্বপ্ন দেখছে।’ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এই ভাষণে তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্র সংস্কার, তরুণ নেতৃত্ব, সুশাসন, গণভোট, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রবাসীদের ভূমিকা— এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

ভাষণের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাইয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।

জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। তার ভাষায়, ‘রাস্তায় নেমেছিল তরুণরা, মা-বোনেরা, শ্রমিক-রিকশাচালক, পেশাজীবী মানুষ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দাবিতে, পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো ভাঙার প্রয়োজনে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পর থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনকে ‘তামাশায়’ পরিণত করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আর জুলাই চাই না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণকে আর কখনো রাস্তায় নামতে হবে না। এজন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

তার মতে, জুলাই-পরবর্তী সরকার কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়নি কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ অবস্থায় সংস্কারকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।’

ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তরুণদের ভূমিকা ও সম্ভাবনার আলোচনা। জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু একটি মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে— কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না। সেই সাহস দেখিয়েছেন আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদীসহ জুলাইয়ের আন্দোলনের শহীদ ও সহযোদ্ধারা।’

তরুণদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারা পরিশ্রমী, সাহসী, মেধাবী এবং প্রযুক্তিবান্ধব। তারা সত্য বলতে দ্বিধা করে না এবং নতুনকে গ্রহণ করতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।’