ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
সময়: ১২:১২:০০ AM

নাজিম উদ্দিন আলম:আদর্শিক রাজনীতির এক দৃঢ় প্রতীক

মান্নান মারুফ
14-06-2026 07:47:13 PM
নাজিম উদ্দিন আলম:আদর্শিক রাজনীতির এক দৃঢ় প্রতীক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাদের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাদেরকে কর্মী-সমর্থকদের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রবীণ নেতা নাজিম উদ্দিন আলম তাদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি নানা প্রতিকূলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবরণ করেও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে তার অনুসারীরা মনে করেন।

ভোলা জেলার সদর উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের চরছিফলী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী নাজিম উদ্দিন আলম ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নাজিম উদ্দিন আলম ছিলেন মাঠকেন্দ্রিক নেতা। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে বহুবার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে তিনি বারবার মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। নানা চাপ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেছেন।

সংসদীয় রাজনীতিতেও নাজিম উদ্দিন আলমের রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তিনি ভোলা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ভোলা অঞ্চলে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্ক ও আইনি জটিলতাও তার পথচলার অংশ ছিল। ২০০৪ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ যুবলীগের নেতা আক্তারুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১১ মার্চ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ২০০৮ সালের ৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল।

নাজিম উদ্দিন আলম দীর্ঘদিন বিএনপির জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আর্ন্তজাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনাও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে দমন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নাজিম উদ্দিন আলমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য। বিভিন্ন সময়ে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনও দল ত্যাগের চিন্তা করেননি। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা পদ-পদবির চেয়ে দলীয় আদর্শ ও সংগঠনকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাজিম উদ্দিন আলমকে বিএনপির একজন অভিজ্ঞ, সংগ্রামী এবং আদর্শনিষ্ঠ নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ, মামলা-মোকদ্দমা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার দীর্ঘ ইতিহাস তার রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমর্থকদের দৃষ্টিতে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন সাহসী সৈনিক, যিনি দীর্ঘ পথচলায় দল ও আদর্শের প্রতি নিজের অঙ্গীকার অটুট রেখেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের কর্মীদের জন্য সংগ্রাম, ধৈর্য ও দলীয় আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।