ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
সময়: ০৭:৫৮:৩০ PM

গণপূর্তর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
22-06-2026 06:22:59 PM
গণপূর্তর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন লাভ করেছেন এবং এর মাধ্যমে অধিদপ্তরে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেন। অনেকের মতে, বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তার প্রভাব আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় হলেও তার পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ককে নিজের প্রশাসনিক অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভোলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেশ কয়েকটি সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের পাইয়ে দেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে ভবনের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের মুখোমুখি হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম গণপূর্ত সার্কেল-১-এ কর্মরত অবস্থায় সরকারি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে তিনি সাভার গণপূর্ত সার্কেলে পদায়ন লাভ করেন। সাভার সার্কেলের আওতায় মিরপুর, সাভার, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সময় তিনি নিয়োগ, বদলি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রভাব খাটান। পাশাপাশি কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়।

কয়েকজন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুরের একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং পুলিশের থানা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত কয়েকটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দরপত্র ব্যবস্থাপনায় নিয়মবহির্ভূত প্রভাব খাটানো হয়েছে।

এছাড়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, বদরুল আলম খানের নির্দেশনা উপেক্ষা করলে বদলি বা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সামগ্রিকভাবে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তাকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি বাণিজ্য, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার মতো নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের। যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।