ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:১৩:০৪ PM

মামলা করবো, তারপর যাবো:নাহিদ ইসলাম

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
29-07-2026 09:11:03 PM
মামলা করবো, তারপর যাবো:নাহিদ ইসলাম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধা অতিক্রম করার পর হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে মিরপুর এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ সময় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেও সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন।

পুলিশি বাধার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল আগের দিনের হামলার ঘটনায় মামলা করা, আহতদের খোঁজ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে মৌলভীবাজারে তাদের পথরোধ করা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে বালুভর্তি ট্রাক, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তারা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ১৪৪ ধারা জারি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে সীমিত সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে কর্মসূচি সম্পন্ন করবেন। তিনি বলেন, “আমরা পুলিশকে বলেছি, আপনারা যতজন যেতে বলবেন, আমরা ততজনই যাব। আমরা শুধু মামলা করব, আহতদের দেখব এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফিরে আসব। আমাদের কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টির ইচ্ছা নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেখানে তাদের আটকে রাখা হয়েছে সেখানে ১৪৪ ধারা কার্যকর নেই। তবুও পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে রেখেছে। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, তাদের পেছনে শত শত ছাত্রদল নেতাকর্মী অবস্থান করছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। তিনি ঘোষণা দেন, “আমরা এখানেই অবস্থান করব। ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে এসেছি মামলা করতে, সেটি করেই ফিরব।”

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায়ও এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। সেখানে সড়ক বন্ধ থাকায় নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও এনসিপির নেতাকর্মীদের সামনে এগোনোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এনসিপির নেতারা পুলিশের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রশাসন অযৌক্তিকভাবে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসন ও এনসিপির পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে সবার দৃষ্টি রয়েছে।