এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি টাকা বিল উত্তোলন, টেন্ডারে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওএসডি করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পুনরায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়।
এর আগে গত ২০ আগস্ট তাঁকে বান্দরবানের সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। ওই আদেশের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে তাঁকে আবারও একই পদে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি হিসেবে কর্মরত ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে পুনরায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনগুলোর সূত্র ধরে গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাঁকে বান্দরবানের সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ঢাকার মহাখালীতে ওএসডি হিসেবে পদায়ন করে।
তবে ওই পদায়নের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁকে পুনরায় বান্দরবানে একই দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের অভিযোগ, যেসব অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বান্দরবান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত বা নিষ্পত্তির বিষয়টি স্পষ্ট না করেই তাঁকে একই পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
বান্দরবানের কয়েকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, সিভিল সার্জন শাহীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে পুনরায় একই দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চান।
তবে ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে, এক কোটি টাকার ওষুধ কেনার বিপরীতে চার কোটি টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলও প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে বান্দবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযোগের পর ওএসডি করা এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুততম সময়ে তাঁকে পুনরায় একই পদে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।