ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ১০:২৭:৪০ PM

আলম ফরাজীকে ঘিরে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
10-10-2026 08:04:30 PM
আলম ফরাজীকে ঘিরে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমরা গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা, দলের প্রতি তাঁর অবদান, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার ইতিহাস এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডকে যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে কেবল একটি মামলার অভিযোগের আলোকে মূল্যায়ন করা কতটা সমীচীন—সে প্রশ্ন আজ সামনে এসেছে।
জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী কেবল একটি রাজনৈতিক পদবির নাম নন; তিনি মির্জাগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত একজন পরিচিত মুখ। তাঁর সমর্থকদের মতে, দলের কঠিন সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন এবং তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। রাজনীতিতে পদ-পদবি গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে তাঁর কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রতিকূল সময়ে অবিচল থাকা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। এই বিবেচনায় জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীকে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।৷  তিনি উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণও তাঁর রাজনৈতিক পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে উপেক্ষা করে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের একমাত্র দিক সামনে আনা হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয় না।
আমরা মনে করি, একজন নেতার রাজনৈতিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর কাজ, সাংগঠনিক অবদান, জনসম্পৃক্ততা এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে। কারও প্রতি সমর্থন থাকলেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা যায় না; আবার অভিযোগ উঠলেই তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সামাজিক অবদান অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি অংশের অভিযোগ, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, তাঁকে বিতর্কিত করে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। কারা এর পেছনে রয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কী কিংবা প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কোনো পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারণা চলছে কি না—এসব বিষয়ে প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার—কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা গ্রহণযোগ্য নয়। আবার কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়াও কাম্য নয়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পক্ষপাত কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ভিত্তিতে নয়অস্ত্র মামলার অভিযোগ ও বিচারাধীন প্রক্রিয়া: আইনই হোক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি
প্রকাশিত সংবাদে জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলা এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য, মামলার অভিযোগ ও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বিচারাধীন কোনো মামলায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। কোনো অভিযোগের বিচার হবে আইন ও আদালতের মাধ্যমে। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, মামলার বর্তমান অবস্থা যাচাই এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপনও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট, আমন্ত্রণের কারণ এবং অংশগ্রহণের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। একটি সভায় উপস্থিতি কিংবা বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তির সমগ্র রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যুক্তিসংগত নয়।রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ভূমিকারও মূল্যায়ন হোক
জাহাঙ্গীর আলম ফরাজী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সুবিদখালী রোকেয়া খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝাটিবুনিয়া মই বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দারুসসুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার সহসভাপতি এবং আমড়াগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সুবিদখালী মহিলা কলেজের সদস্য এবং সুবিদখালী সরকারি কলেজের সাবেক সদস্য হিসেবেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এসব দায়িত্ব ও সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক ভূমিকার অংশ। তাই তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা—সবকিছু যথাযথ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হলে পাঠক একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাবেন।
আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ, তেমনি তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতারই অংশ।আমরা জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে চাই না; বরং চাই, তিনি যেন আইন অনুযায়ী ন্যায়সংগত বিচার পান। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরোধিতা করি না; বরং চাই, সেই স্বাধীনতা দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত সততার সঙ্গে প্রয়োগ করা হোক।
একজন কর্মীবান্ধব ও সাংগঠনিক নেতার রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধানও হতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা, দলের প্রতি অবদান এবং সামাজিক সম্পৃক্ততাকে সম্পূর্ণ আড়াল করে দেওয়া যেমন কাম্য নয়, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগকেও চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়।
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আমাদের আহ্বান—জাহাঙ্গীর আলম ফরাজীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ পুনর্মূল্যায়ন করুন, তাঁর বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করুন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করুন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিও আহ্বান, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করুন।দুর্দিনে দলের পাশে থাকা নেতার রাজনৈতিক অবদান যেন বিতর্কের আড়ালে হারিয়ে না যায়, আবার কোনো অভিযোগও যেন যথাযথ বিচার থেকে বাদ না পড়ে। আমরা চাই, সত্যের যথাযথ অনুসন্ধান হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা আরও শক্তিশালী হোক।

প্রতিবাদকারী
সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ
মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী