ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৪:২৯:৫৫ PM

ভাঙ্গায় কলহের জেরে স্বামীর ওপর হামলা

ষ্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
02-07-2026 02:16:58 PM
ভাঙ্গায় কলহের জেরে স্বামীর ওপর হামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে সংঘটিত এক নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সিমু (২২) গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অপরদিকে গুরুতর আহত স্বামী হানিফ (৩০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া আক্তারের বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতি এলাকায়। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকার এক প্রবাসীর সঙ্গে। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী বিদেশে থাকায় সুমাইয়া প্রায়ই ভাঙ্গার পুখুরিয়া এলাকায় কেনাকাটার জন্য যেতেন। সেখানেই দুই সন্তানের জনক ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী হানিফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি।

একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একবার তাদের হানিফের দোকানে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। খবরটি সুমাইয়ার প্রবাসী স্বামীর কাছেও পৌঁছে যায়। সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবে তিনি দেশে ফিরে এসে কিছুদিন নগরকান্দায় ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। পরে জীবিকার তাগিদে পুনরায় কাতারে চলে যান।

এরপর আবারও সুমাইয়া ও হানিফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর স্বজনদের দাবি, সুমাইয়া ভাড়া বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং পরে প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে হানিফের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

প্রায় এক মাস আগে সুমাইয়া ও হানিফ ভাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের বিরোধ চলছিল। সুমাইয়ার অভিযোগ ছিল, হানিফের অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে হানিফ কসমেটিকস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রতিদিন নারী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এছাড়া সুমাইয়ার দাবি ছিল, তিনি হানিফকে নগদ ৮ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়েও নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন হানিফ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সুমাইয়া ধারালো ব্লেড দিয়ে তার ওপর হামলা চালান এবং তার যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সামনে এলেও অভিযোগগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব তথ্যকে অভিযোগ বা স্থানীয় সূত্রের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।