ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:৫৫:২০ PM

ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক:যুবদল সভাপতি

মান্নান মারুফ
09-06-2026 11:55:20 PM
ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক:যুবদল সভাপতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু নেতার নাম উচ্চারিত হয়, যাদের জীবন কেবল রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আদর্শ, ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মনিবেদনের এক অনন্য ইতিহাস হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না তেমনই একজন নেতা, যার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে দল, আদর্শ এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে।অনেকেই প্রেম-ভালোবাসাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে খুঁজে পান। কিন্তু মোনায়েম মুন্নার কাছে প্রেম মানেই দল, ভালোবাসা মানেই বিএনপির আদর্শ। কৈশোর থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতির পথে পা বাড়ান। একবার যে পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই পথ থেকে আর কখনও পিছিয়ে যাননি। অসংখ্য প্রতিকূলতা, নির্যাতন, মামলা, হামলা এবং জীবনের ঝুঁকির মধ্য দিয়েও তিনি দলের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন।

লক্ষ্মীপুরে পৈতৃক নিবাস হলেও আব্দুল মোনায়েম মুন্নার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। শিক্ষাজীবনের শুরু ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখান থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে আবুজর গিফারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পেতে শুরু করে।

১৯৮৫ সালে আবুজর গিফারী কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি এবং মতিঝিল থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর একে একে বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মতিঝিল থানা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে।

দলের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ। রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়, বরং আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি তার যৌবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন দল ও দেশের রাজনীতির জন্য।

বিশেষ করে গত ১৬ বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। সেই সময়ে মোনায়েম মুন্না ছিলেন রাজপথের একজন অগ্রসৈনিক। অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পুলিশি অভিযান এবং রাজনৈতিক হয়রানির মধ্য দিয়ে তাকে জীবন কাটাতে হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে বহু সময় তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ এই সময়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি।

একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত জীবনও থাকে। থাকে পরিবার, সন্তান, মা-বাবা এবং প্রিয়জনদের প্রতি দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতা মোনায়েম মুন্নাকে সেই স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। মায়ের স্নেহ, স্ত্রীর ভালোবাসা কিংবা সন্তানের সান্নিধ্য—সবকিছুর চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন দলের স্বার্থকে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মামলা মোকদ্দমা এবং আত্মগোপনের কারণে অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।

তবুও তিনি থেমে যাননি। তার সহকর্মীরা বলেন, কঠিন সময়ে কর্মীদের সাহস জোগাতে এবং সংগঠনকে সচল রাখতে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মিষ্টভাষী, সহজ-সরল ও মিশুক স্বভাবের এই নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়েও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, যা বিএনপির অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন, তার নেতৃত্বেও এসেছে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই কমিটিতে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন সাধারণ সম্পাদক এবং রেজাউল কবির পল সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। দল তার কাজকর্মে খুশি হয়ে পুনরায় গত ৪ জুন যুবদলের সভাপতি হিসাবে নিযোগ করেন।

যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দল প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই যুবসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে এই সংগঠন গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ছিলেন আবুল কাশেম এবং প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাইফুর রহমান। দীর্ঘ পথচলায় যুবদল দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আজকের যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না সেই ঐতিহ্যেরই ধারক ও বাহক। তার রাজনৈতিক জীবন কেবল একটি ব্যক্তির সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ এবং অঙ্গীকারের এক জীবন্ত দলিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি প্রমাণ করেছেন যে আদর্শের প্রতি অবিচল থাকলে প্রতিকূলতাও একজন মানুষকে পরাজিত করতে পারে না।

দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন নেতা নন, বরং সংগ্রামের প্রতীক। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে চলেছেন নিজের স্বতন্ত্র ছাপ। রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে আজ তিনি যুবদলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত। তার এই যাত্রা নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।