রাজধানীর প্রেসক্লাব সংলগ্ন মেট্রোলাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) পদবঞ্চিত যুবদল নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা সূত্রে জানা যায়, উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও যুবদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সাক্ষাতে তারা বিগত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী, রাজপথে পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার নেতাদের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাবেন। পাশাপাশি সদ্য ঘোষিত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও অনৈতিকতার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবেন বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটির ঘোষণার পর সংগঠনের ভেতরে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও গ্রুপিং আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংঘটিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিষয়টিও তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে বলে তারা জানান। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের এক দায়িত্বশীল নেতার অসাংগঠনিক, অসংলগ্ন ও রূঢ় আচরণের বিষয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পদবঞ্চিত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই ২০২৬ যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সভায় অযোগ্য, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্তির দায় নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং পারস্পরিক তর্ক-বিতর্কের ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
সভায় আরও বলা হয়, নবগঠিত কমিটির বিভাগীয় টিম জেলা সফরে গেলে বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা ও সম্মান পাননি। কোনো কোনো জেলায় বিতর্কিত বলে অভিযোগ থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। এসব পরিস্থিতি সংগঠনের জন্য অস্বস্তিকর এবং উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
তাদের মতে, কমিটি গঠনে অভিযোগ ওঠা অনিয়ম এবং তৃণমূল পর্যায়ে নবগঠিত কমিটির নেতাদের যথাযথ গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত পদবঞ্চিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান তারা।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা অনেক নেতা নবগঠিত কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে যোগ্য, পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।
জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, রিয়ন তালুকদার, দেওয়ান অলি উদ্দিন সুমন, আবুল হাসান, খালিদ মাহমুদ মাসুদ, মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান সোহাগ, আমানুল্লাহ বিপুল, আসাদুল হক টিটু, গোলাম ফারুক, সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ, বাসেদুর রহমান সোহেল, মিজানুর রহমান মোল্লা, মিজানুর রহমান খান, কাজী মেজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আরিফ, আনোয়ার জাহিদ, মাসুদ সরকার, সুমন চৌধুরী, সবুর খান সাগর, মিরাজ আজিম, স্বপন মণ্ডল, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, খন্দকার আমিনুল হক কাকন, নজরুল ইসলাম নাহিদ, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, খলিলুর রহমান জনি, শরিফ আল ফরহাদ দীপু, রবিউল হাসান আরিফ, ফজলুল হক নিরব, রাকিবুল ইসলাম রোকন, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আজম, বিশ্বজিৎ ভদ্র, এম কামরুল হাসান, মাহমুদ খান, দুলাল মাতব্বর, খসরু আহমেদ হিরন, সেলিম রেজা, মাসুদ রানা, মানিক হোসেন, এমদাদুল হক পারভেজ, ইমদাদুল হক, জাহিদ হাসান হিরন, নজরুল ইসলাম, মহিন উদ্দিন বেগ সুজন, কবির আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে সকল পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তারা দলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।