ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩৭:৩১ AM

নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
17-07-2026 09:44:05 PM
নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে দালাল ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও রাজীব দত্ত যেখানেই দায়িত্ব পালন করেন, সেখানেই নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি সহকর্মীদের কাছে তিনি দাবি করে থাকেন যে, অন্তত ২০ জন সাংবাদিক তার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পরও আমার ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে থাকা এক ব্যক্তির পরামর্শে নাজির রাজীব দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি টাকা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার কাজ সম্পন্ন হয়।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট গঠন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। সে সময় অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে প্রতিটি দলিল বা নামজারি সংক্রান্ত কাজে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

এছাড়া ওই সময় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রাজীব দত্তের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে বলেন, “এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।” তবে তার এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভূমি অফিসে দালালনির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের ভাষ্য, অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবেন এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।