ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:০৭:১৫ PM

রাজধানীতে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
12-07-2026 12:25:57 PM
রাজধানীতে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ

রাজধানী ঢাকায় শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে রোববার (১২ জুলাই) সকালজুড়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিককে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। জলাবদ্ধতা, অতিরিক্ত যানজট এবং গণপরিবহনে যাত্রীর চাপ মিলিয়ে রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় রোববারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বর, পল্লবী, আগারগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি কিছুটা কমলেও গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে বাস থামার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের মধ্যে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রীকে একাধিক বাস ছেড়ে দিতে হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

বাসের ভেতরেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। অধিকাংশ বাসে আসন পাওয়া তো দূরের কথা, দাঁড়িয়ে যাত্রা করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ যাত্রীরা তুলনামূলক বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেককে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ইসিবি চত্বর, পল্লবী, আগারগাঁও, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর, বাংলামোটর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে অনেকেরই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও যানজটের কারণে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে দেখা যায়।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালকদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় মানুষকে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, অনেক যাত্রী ছাতা হাতে কিংবা রেইনকোট পরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেই বাসে ওঠার চেষ্টা করছেন। বাস আসামাত্রই যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা সকালজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল নিয়মিত দৃশ্য। গণপরিবহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার দুপুর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকার আকাশ দিনভর মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

বিভাগভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, চলমান মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা, যানজট এবং স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীতে মৌসুমি বৃষ্টির এই প্রভাব নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সামান্য সময়ের ভারী বর্ষণেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতেও রাজধানীবাসীকে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।

সার্বিকভাবে টানা বর্ষণে রোববার রাজধানীর জনজীবন ছিল স্থবির। জলাবদ্ধতা, যানজট এবং গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ মিলিয়ে নগরবাসীকে দিনের শুরুতেই নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।