ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৭:২১:৪৩ PM

নিজেদের প্রণীত আইনেই তদন্তের মুখে আ’ লীগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
09-07-2026 05:45:59 PM
নিজেদের প্রণীত আইনেই তদন্তের মুখে আ’ লীগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের পরিধিতে ১৯৭৫ সালে সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ের অভিযোগিত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী দলটির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধকরণসহ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আইনের ২ নম্বর ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। বর্তমানে সরকার সেই আইনেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

এদিকে ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করেছে। শুধু ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়, দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মিশনেও নতুন নিয়োগ ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি প্রশাসনের বাইরে থেকেও কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনকে ঘিরে মন্ত্রণালয়ের পেশাদারিত্ব, কর্মকর্তাদের মনোবল এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দায়িত্ব বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কার নির্দেশ অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্টতা নেই। একই সঙ্গে ঘন ঘন বদলি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, এসব বিষয় কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দক্ষতা প্রয়োজন হয়। তাই প্রশাসনিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে বহুমুখী কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। এমন সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তন যেন পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামগ্রিকভাবে, একদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক রদবদল প্রশাসনিক কার্যক্রম, পেশাদারিত্ব এবং কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।