ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:০৮:৩৯ PM

স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছাতে মাঠে ফারুক

মান্নান মারুফ
10-07-2026 08:24:24 PM
স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছাতে মাঠে  ফারুক

 আগামী অক্টোবর থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এই নির্বাচন ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক নোয়াখালীর নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রমে আরও গতি আনতে ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নুল আবদিন ফারুক দীর্ঘদিন ধরেই দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই তিনি নিজ এলাকায় ছুটে যান এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চলতি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতেও তিনি এলাকায় অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের নেতৃত্বে সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সমন্বয় বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন।

শুধু দলীয় কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছেন জয়নুল আবদিন ফারুক। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনা এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করছেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার বিষয়েও মানুষকে অবহিত করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিয়েও তিনি কাজ করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, জয়নুল আবদিন ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জয়নুল আবদিন ফারুক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

তিনি নোয়াখালী-১ ও নোয়াখালী-২ আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির মনোনয়নে তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন  ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করাসহ মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জয়নুল আবদিন ফারুক দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, সংসদীয় রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আবারও মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দলীয় সংগঠনকে সুসংগঠিত করা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বিবেচনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি জয়নুল আবদিন ফারুকের এ ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।