ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:২৬:৪৬ PM

গৃহবধূকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
11-07-2026 12:34:00 PM
গৃহবধূকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নুপুর আক্তার নামে ওই গৃহবধূ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের মানসিক চাপ, অপমান এবং অনৈতিক প্রস্তাবের মুখে পড়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে নুপুর আক্তারের বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের সন্তান না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে তাঁকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, অপমানজনক মন্তব্য এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হতো। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং তাঁর শ্বশুর তাঁর প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন।

নুপুর আক্তারের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁর শ্বশুর তাঁকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং একসঙ্গে রাত কাটানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বিভিন্নভাবে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের আচরণের কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং পরিবারে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে নুপুর আক্তার প্রবাসে থাকা তাঁর স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি জানার পরও স্বামী বাবার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি কিংবা স্ত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেননি। স্বামীর এই নীরব অবস্থান তাঁকে আরও অসহায় ও নিরাপত্তাহীন করে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের ভেতরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষী ব্যক্তি আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবেন।

এদিকে অভিযোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্বশুর বা সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে কাউকে দোষী বা দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।