ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৭:৫০:৩২ PM

প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদকে ঘিরে দুর্নীতির বিতর্ক

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
09-10-2026 06:15:34 PM
প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদকে ঘিরে দুর্নীতির বিতর্ক

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে দুর্নীতির একটি মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট দাখিলের বিষয়টিও রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। ওই অভিযোগে ঘুষের অর্থ তাঁর শাশুড়ির ব্যাংক হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান অবস্থা, অভিযোগপত্রে উল্লিখিত তথ্য এবং আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতির মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায়ও তিনি তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার অগ্রগতি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগে ফরহাদুজ্জামানের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে কোটি টাকা মূল্যের জমি, পূর্বাচলে আট কাঠা করে দুটি প্লট এবং নয়াপল্টনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর নামে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রায় ৪০০ শতাংশ জমি এবং লালমনিরহাট সদরে পাঁচতলা একটি বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। স্বামী-স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং ব্যাংক লেনদেনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ (বিআইডব্লিউটিপি-১)-এর শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দিয়েছে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অর্থের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, এত অভিযোগ ও তদন্তের প্রসঙ্গ সামনে আসার পরও ফরহাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মামলার অগ্রগতি, তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ ও তথ্যনির্ভর করা সম্ভব হবে।