ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
সময়: ০৯:০৮:৪৮ PM

দিল্লি বিমানবন্দরে ডা.জাহেদকে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
23-06-2026 07:28:00 PM
দিল্লি বিমানবন্দরে ডা.জাহেদকে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে নয়াদিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারত।মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের মন্ত্রী মর্যাদার একজন প্রতিনিধি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) বৈঠকে যোগ দিতে (ভারত) এসেছিলেন। কিন্তু তাকে বলা হয় যে, তিনি সার্ক ভিসা নিয়ে এসেছেন। একজন মন্ত্রী মর্যাদার বিদেশি প্রতিনিধি ভিসা নিয়ে কিন্তু ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট ছাড়া কি আসতে পারেন না? বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এটা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কী? 

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তিনি (বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) গত ১৪ তারিখ ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে এখানে এসেছিলেন। তিনি আইওআরএ’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন। তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, পরে তার (ডা. জাহেদ উর রহমান) ভারতের আসার উদ্দেশ্য আইওআরএ বৈঠকের ব্যাপারে নিশ্চিত হলে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে একটি মন্দির কমপ্লেক্সের অংশে শ্রীরামের ৮১ ফুট উঁচু মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন।

জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু খবর এসেছে যে, কিছু হিন্দু দেবদেবীর সঙ্গে অপবিত্র ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে সেখানে প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের সরকার সেখানকার চরমপন্থি লোকজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করবে।

লধযবফ
ঢাকা ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
এর আগে, গত ১৪ জুন ভারতের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সেখানে পৌঁছেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এই ঘটনা কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের ডা. জাহেদ জানান, সেখানে তাকে আটকে রাখা হয়নি। একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমি ওখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে ইন্সট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণে আমি ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নিই। একটা পর্যায়ে তারা খুব চেষ্টা করেছে যেন আমি ভারতে প্রবেশ করি। কিন্তু আমি ওই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে দেশে ফেরত আসি।