আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে নামছেন। দলের শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়ে তিনি সাধারণ জনগণের কাছে তার মা ও দলের জন্য দোয়া এবং দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইবেন। দীর্ঘ সময় পর দেশের রাজনীতিতে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমানের এই অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ইৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে, ২২ জানুয়ারি, সিলেট থেকেই তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ওইদিন তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। এরপর সিলেট নগরীতে একটি বড় জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচার শুরু
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন সকালে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সেখানে তিনি দেশ, জাতি এবং দলের নেতাকর্মীদের জন্য দোয়া করবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী এই স্থান থেকেই প্রচার শুরু করার মাধ্যমে দল একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চায়।
মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সিলেটে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এই জনসভায় তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
সিলেটে জনসভা ও একাধিক পথসভা
সিলেটে অনুষ্ঠিত জনসভা শেষে তারেক রহমান নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন। এসব পথসভায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন, তাদের খোঁজখবর নেবেন এবং বিএনপির প্রতি সমর্থন ও ভোট চাওয়ার আহ্বান জানাবেন।
দলীয় নেতারা বলছেন, পথসভাগুলোর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিন পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি উপস্থিতি ও বক্তব্যে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক সমাবেশের পরিকল্পনা
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তিনি দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের জন্য ও দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইবেন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বড় জনসভা ছাড়াও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় পথসভা, মতবিনিময় সভা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি
সিলেটের জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, সিলেট বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখান থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা কাজ করছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
নির্বাচনী প্রচারকালে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তার সঙ্গে একটি সিকিউরিটি টিম থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দলীয় নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী প্রচার সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দোয়া ও ভোট চাওয়ার আহ্বান
নির্বাচনী জনসভা ও পথসভাগুলোতে তারেক রহমান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দলের আদর্শ, অতীত সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জনগণের কাছে বিএনপি ও দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানাবেন।
দলীয় নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের এই সরাসরি অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে বিএনপির জন্য নতুন গতি তৈরি করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের মাঠে নামা বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রচার কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।