ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:৩৩:০৩ AM

প্রথম পরিচয়-৭

মান্নান মারুফ
16-01-2026 12:42:42 PM
প্রথম পরিচয়-৭

পর্ব ৭: প্রেমের ঝুঁকি

ঢাকার ভোরের হালকা আলো ধীরে ধীরে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। কুদ্দুছ জানে—আজকের দিনটি তার জীবনে এক ভিন্ন বাঁক এনে দিতে পারে। স্কলারশিপের ভিসা, পড়াশোনার চাপ আর অ্যামেলিয়ার পরিবারের বিরূপ মনোভাব—সব মিলিয়ে ঝুঁকি এখন তার চারপাশে।

কফির দোকানে বসে গরম কফির কাপ হাতে নিয়ে কুদ্দুছ নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল।
“আজকের দিনটাই হয়তো সবকিছু বদলে দিতে পারে,” সে ফিসফিস করে নিজেকেই বলল।

কিছুক্ষণ পর অ্যামেলিয়া এসে বসল। তার চোখে একসাথে আগ্রহ আর ভয়।

“তুমি ঠিক আছ তো?” সে জিজ্ঞেস করল।

কুদ্দুছ মৃদু হেসে বলল,
“আছি। তবে ঝুঁকি আমাদের খুব কাছেই। তুমি কি প্রস্তুত?”

অ্যামেলিয়ার চোখে দৃঢ়তা ফুটে উঠল।
“আমি সবসময় প্রস্তুত। যদি আমরা একে অপরকে না হারাই, তবে এই ঝুঁকি মূল্যবান।”

তাদের কথোপকথন ছিল ছোট, সরল—তবু গভীরভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কফির উষ্ণতা আর বাতাসের নরম স্পর্শ মিলিয়ে তাদের চারপাশে তৈরি হলো এক অদ্ভুত পৃথিবী।

কিন্তু ঝুঁকি ছিল বাস্তব।

হঠাৎ কফির দোকানের বাইরে কুদ্দুছের ফোনে একটি নোটিফিকেশন ভেসে উঠল—ইমিগ্রেশন অফিস। তার হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে গেল।

“কুদ্দুছ?” অ্যামেলিয়া উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ডাকল।

“ভিসার চেক,” কুদ্দুছ নিচু স্বরে বলল। “ওরা আমাকে খুঁজছে।”

অ্যামেলিয়া সঙ্গে সঙ্গে তার হাত চেপে ধরল।
“ভয় পেও না। আমরা একসাথেই আছি।”

দোকানের বাইরে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। কুদ্দুছের চোখে জমে উঠল এক দমবন্ধ করা অনুভূতি।

“আজকের ঝুঁকি যে এত বড় হবে, ভাবিনি,” সে বলল। “তবু তুমি পাশে থাকলে সবকিছু সহজ মনে হয়।”

অ্যামেলিয়া মৃদু হাসল।
“আমি জানি। তুমি ভয় পাচ্ছ, কিন্তু আমি আছি।”

হঠাৎ বাইরে এক অচেনা শব্দ। কেউ যেন তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কুদ্দুছ বুঝে গেল—সম্ভাব্য অনুসরণ।

“চলো, ভেতরে যাই,” সে ফিসফিস করে বলল।

হাত ধরাধরি, চোখে চোখের মিলন—প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ঝুঁকিতে ভরা।

ক্যাফের ভেতরে বসে অ্যামেলিয়া ধীরে বলল,
“আমি ভয় পাচ্ছি।”

“আমি জানি,” কুদ্দুছ বলল। “কিন্তু ভয়ই কখনো কখনো সাহস হয়ে ওঠে। আমরা একসাথে আছি।”

সন্ধ্যার আলো ক্যাফের জানালায় এসে পড়ল। বাইরে ঢাকার রাস্তায় মানুষের ব্যস্ত চলাচল, অথচ তাদের দৃষ্টিতে ছিল শুধু একে অপরের পৃথিবী।

“তুমি জানো,” কুদ্দুছ বলল, “আজকের এই ঝুঁকিই আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্ত করবে।”

অ্যামেলিয়া তার হাত আরও শক্ত করে ধরল।
“আমি জানি। আমরা একে অপরকে হারাব না। ঝুঁকি যত বড়ই হোক, ভালোবাসা তার চেয়েও শক্তিশালী।”

রাত নেমে এলো। কফির দোকানের আলো নিভে গেল।

তাদের চোখে তখন এক অদ্ভুত শান্তি, হৃদয়ে এক অদৃশ্য বন্ধন। ঝুঁকি রয়ে গেল, কিন্তু ভালোবাসা সব বাধা পেরিয়ে আরও গভীর হলো।

প্রথম ঝুঁকি নেওয়া হয়ে গেছে। তবু চোখে চোখের এই ভালোবাসা সবকিছুর চেয়েও বড়—যেখানে পৃথিবীর কোনো বাধাই পৌঁছাতে পারে না।

চলবে…