আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা দিয়ে দেশটির রাজধানী কাবুলের পাশাপাশি কান্দাহার ও পাকতিকা এলাকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, তারা সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে। উভয়পক্ষের দাবি অনুসারে, দুই পক্ষের মিলিয়ে ১৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগান শহরগুলোতে তাদের ‘পাল্টা হামলা’ ছিল ‘আফগান হামলার’ জবাব।তারা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘গজব লিল হক’।
আর তালেবান সরকার বলেছে, সীমান্তে তাদের হামলা ছিল আগের পাকিস্তানি হামলার প্রতিক্রিয়া। খবর বিবিসি বাংলার।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, রাজধানী কাবুল, পাকতিকা এবং কান্দাহারের কিছু স্থানে বোমা হামলা হয়েছে।
তবে তিনি দাবি করেছেন, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কাবুলে থাকা সাংবাদিকরা জানান, ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কাবুল শহর। গভীর রাতে যুদ্ধবিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণের শব্দ শহরজুড়ে শোনা যায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় কাবুলে প্রায় ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।এর আগে পাকিস্তান জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সীমান্তে তাদের সামরিক অবস্থানে তালেবান বাহিনী অভিযান চালালে দুই পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ক্ষতি করার দাবি করেছে। পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, তাদের বাহিনীগুলো ‘যেকোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করতে সক্ষম’।
তিনি বলেন, ‘প্রিয় স্বদেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানান, কাবুল, পাকতিকা ও কান্দাহারে আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে তালেবানের ১৩৩ সদস্য নিহত এবং দুই শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন তিনি।
এদিকে তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১২টায় উপ-আমিরের নির্দেশে হামলা বন্ধ করা হয়।
তবে হতাহতের যেসব সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে তা নিজস্বভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
আগেকার সংঘাতের মতো এবারও পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনী, উভয় পক্ষই একে অপরকে প্রথমে আক্রমণ করার অভিযোগ করেছে।