ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬,
সময়: ০৫:০৮:৫৯ PM

তারেক রহমানের হারানো কাগজপত্র পেয়েছিলেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ

শাহ ওয়ালী উল্লাহর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া
14-05-2026 11:35:27 AM
তারেক রহমানের হারানো কাগজপত্র পেয়েছিলেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হারিয়ে যাওয়া এসএসসি ও এইচএসসির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কুড়িয়ে পাওয়ার একটি স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ। বুধবার (১৩ মে) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ১৯৮৬ সালের সেই ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দিনে আমার সাথে সংঘটিত ঘটনার স্মৃতিচারণ’ শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে শাহ ওয়ালী উল্লাহ দাবি করেন, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে কলা ভবনের নিচে অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় ডিনের কক্ষের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখেন। কাগজপত্রগুলো হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, কাগজপত্রগুলো ছিল তারেক রহমানের।

তিনি লিখেছেন, কাগজপত্রে ‘তারেক রহমান’ এবং পিতা হিসেবে ‘জিয়াউর রহমান’-এর নাম দেখে প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কারণ তখনও তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি যে এগুলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের নথিপত্র। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, এক তরুণ উদ্বিগ্নভাবে তার হারানো ফাইল খুঁজছেন। পরে তিনি ফাইলটি ওই তরুণের হাতে তুলে দেন। তরুণটি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ফাইল গ্রহণ করেন এবং ধন্যবাদ জানান। তখনই শাহ ওয়ালী উল্লাহর মনে হয়, তরুণটির চেহারার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মিল রয়েছে।

শাহ ওয়ালী উল্লাহ তার পোস্টে সে সময়কার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল মোমেন চৌধুরী, যিনি ইতিহাস বিভাগের একজন প্রভাবশালী শিক্ষক ছিলেন। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তারা চারজন উপাচার্যের সময়কাল দেখেছেন। তারা হলেন— অধ্যাপক ড. শামছুল হক, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিয়া এবং অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমদ।

সে সময়ের ছাত্ররাজনীতির নানা ঘটনার স্মৃতিচারণও করেন তিনি। শাহ ওয়ালী উল্লাহ লেখেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল উত্তপ্ত। মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল নিয়মিত ঘটনা। ডাকসু নির্বাচনও সে সময় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি সুলতান-মোস্তাক পরিষদ এবং আমান-খোকন পরিষদের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সহিংস ঘটনাও ঘটত। মহসিন হলে ছাত্রনেতা বাবলু হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়া হলের সামনে এক সভায় বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দিচ্ছিলেন। হঠাৎ খবর আসে, ‘পাগলা শহীদ’ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন। এসব কারণে তারেক রহমানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করাও কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ।

তিনি আরও কয়েকজন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও পরিচিত ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর মতো ব্যক্তিরা সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের নানা স্মৃতির কথাও আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেন।

তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে নানা সময়ে যে বিতর্ক বা প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়েও মন্তব্য করেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে তার কলেজের গভর্নিং বডির এক সভায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা মন্তব্য করেছিলেন যে, “তারেক জিয়া ইন্টারমিডিয়েট শেষ করতে পারেননি, তাই তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন হাস্যকর।” ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তিনি উপস্থিতদের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানের ভর্তি হওয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

শাহ ওয়ালী উল্লাহ জানান, পরে তিনি বিষয়টি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কারিমুল হাই নাইমসহ কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকেও বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে তিনি অনার্স সম্পন্ন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “এই ঘটনা তারেক রহমানের মনে আছে কি না জানি না। তবে আমার এই স্মৃতিচারণ পাঠকদের কাছে তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরবে বলে আশা করি।”

শাহ ওয়ালী উল্লাহর এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার স্মৃতিচারণকে ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এমন একটি স্মৃতি সামনে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।