বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় আরও একটি রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল! নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র থাকার পর, টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় আর্সেনালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার এই শিরোপা জিতেছিল তারা, এবার সেই মুকুট নিজেদের কাছেই ধরে রাখল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।অন্যদিকে, ১৯৮০ এবং ২০০০ সালের পর ইউরোপিয়ান আসরের ফাইনালে আবারও টাইব্রেকার-ট্র্যাজেডির শিকার হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো উত্তর লন্ডনের ক্লাব আর্সেনালকে। ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেও দীর্ঘশ্বাসের গল্প লিখল গানাররা।অথচ ফাইনালের শুরুটা হয়েছিল সম্পূর্ণ আর্সেনালের স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় পিএসজির রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গানারদের লিড এনে দেন কাই হাভার্টজ।
লিয়ান্দ্রো ত্রসার্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসা বল বক্সের ভেতর থেকে দারুণ এক কোণাকুণি শটে জালে জড়ান এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর পুরো প্রথমার্ধে রীতিমতো রক্ষণাত্মক দুর্গ গড়ে তোলে আর্সেনাল।
বল দখলের লড়াইয়ে পিএসজি ৭৬ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও, গাব্রিয়েল মাগালায়েসদের অবিশ্বাস্য সব ব্লকের কারণে প্রথমার্ধে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় পিএসজি। যার ফলশ্রুতিতে ৬২ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ পেয়ে যায় তারা। উসমান দেম্বেলে ও খভিচা কাভারাতসখেলিয়ার চমৎকার একটি ওয়ান-টু পাসের পর বক্সে ঢুকতে গেলে কাভারাতসখেলিয়াকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন আর্সেনালের ক্রিস্টিয়ান মসকেরা। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
৬৫ মিনিটে স্পট কিক থেকে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে ভুল দিকে ডাইভ করিয়ে নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ১-১ করেন দেম্বেলে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে বেশ কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনলেও গোলমুখ আর খুলতে পারেনি কেউ।
১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। টাইব্রেকারের শুরুতেই পিএসজির গনসালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিয়োকেরেস দুজনেই বল জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় রাখেন। এরপর পিএসজির তরুণ ফরোয়ার্ড দুয়ে লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নিলেও চরম চাপের মুখে আর্সেনালের বদলি খেলোয়াড় এবেরেচি এজের নেওয়া শটটি বাম পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এতে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল। তবে তৃতীয় শটে পিএসজির নুনো মেন্দেসের কিক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। এরপর ডেক্লান রাইস আর্সেনালের হয়ে গোল করে আবারও ২-২ স্কোরে সমতা নিয়ে আসেন।
চতুর্থ শটে পিএসজির আশরাফ হাকিমি এবং আর্সেনালের গাব্রিয়েল মার্তিনেলি দুজনেই সফল হলে ম্যাচ সাডেন ডেথে গড়ায়। সেখানে পিএসজির লুকাস বেরালদো ঠান্ডা মাথায় ডান কোণে বল জড়িয়ে স্কোর ৪-৩ করেন। ফলে ম্যাচ বাঁচানোর চূড়ান্ত এবং পাহাড়সম চাপ এসে পড়ে প্রথমার্ধে দারুণ ডিফেন্ডিং করা ব্রাজিলিয়ান তারকা গাব্রিয়েল মাগালায়েসের কাঁধে। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে তার নেওয়া শটটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে আকাশে উড়ে যায়।
গাব্রিয়েলের এই মিসের সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্সেনালের স্বপ্নভঙ্গ। আর পুসকাস অ্যারেনার রাতটি পরিণত হয় পিএসজির টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ-জয়ের মহোৎসবে।