ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৭:১৪:৫১ PM

দিল্লিতে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ, আন্দোলন অব্যাহত

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
21-07-2026 11:38:45 AM
দিল্লিতে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ, আন্দোলন অব্যাহত

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুব ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও মধ্য দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। এ ছাড়া ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার মধ্য দিল্লিতে আধাসামরিক বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড স্থাপন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি জানায়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সমর্থকদের উদ্দেশে এক্সে লিখেছেন, “আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতাম।” তিনি বিশেষ করে যেসব তরুণী ও নারী পুলিশ সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেলে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর দুর্নীতির প্রতিফলন। সেই ঘটনার পর থেকেই তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।

সিজেপির ডাকে সোমবার দিল্লি ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

গত ২৮ জুন থেকে অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন পাওয়ার পর আন্দোলন আরও গতি পায়। তবে শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

উত্তর প্রদেশের আন্দোলনকারী সাহিল সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে এবং আন্দোলনস্থলে ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমেই এ ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, সোমবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপির দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সরকারিভাবে আলোচনার জন্য কিছু সময় চান।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থীর পরিবারকে জনপ্রতি এক কোটি (১০ মিলিয়ন) রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি এবং চাকরির সংকটকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের জেরে সোমবার বিরোধী দলের নেতারা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারও আন্দোলনে যোগ দেন। বিরোধী দলগুলো পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করলেও ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা এই সহিংসতাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি (ACLED)-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন জনঅসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তার মতে, আন্দোলন সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও তরুণদের এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে মোদি সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।