ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৮:০৮:৩১ PM

তদন্তের মুখে হিসাব নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাশুক

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
10-09-2026 06:52:33 PM
তদন্তের মুখে হিসাব নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাশুক

পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার অডিট করানো, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই দায়িত্ব বণ্টন এবং একই কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পাঠানো, বিধিবহির্ভূত বদলি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে কোনো ধরনের মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব পালন করার কথা তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের। কিন্তু এর পরিবর্তে এক ধাপ ওপরের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে এসব অডিট করানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাকে তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে অন্য কাজে পাঠাতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মৌখিক বা লিখিত অনুমোদন নেওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

নথিতে দেখা যায়, গত ৫ মে ঢাকা বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) আবুল কাশেমকে একটি অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগেও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অডিটের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে গত জুনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্বও দেওয়া হয়। ফলে একই কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম উত্তর বা চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দিদারুল আলম পাটোয়ারীকে তিন পার্বত্য জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূতভাবে বদলির অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অন্য জেলায় বদলি ও মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানান, এসব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। অডিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সফরসূচি, টিএ/ডিএ বিল, ভাউচার, অনুমোদনপত্র, অডিট প্রতিবেদন, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথি পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে একই কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলার অডিটের দায়িত্ব পেয়ে থাকলে তাঁর সফর ব্যয়, সফরের সময়কাল, অডিটের ফলাফল এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তও যাচাই করা হবে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সামনে আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাশুক বিল্লাহ আরেফ খান দাবি করেন, তিনি আগের নিয়ম অনুসরণ করেই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এর আগে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে প্রায় দেড় বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা তাঁর অজ্ঞতার কারণে হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।