তথ্যমন্ত্রণালয়ে গতি ফেরার প্রত্যাশা, সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে আশাবাদ
নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার কারণে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্যমন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরবে—এমন প্রত্যাশা করছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের স্বার্থ রক্ষা এবং গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও দুই মন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী দুজনই সাহসী, সৎ ও কর্মঠ হিসেবে পরিচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সাংবাদিকবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা, পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের প্রতি।
সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায়ও দুই মন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে দেশের সাংবাদিকতা যেন আরও শক্তিশালী, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
আন্দালিব রহমান পার্থ ও ইয়াসের খান চৌধুরী দুজনই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই তারা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। ফলে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচিতিও দেশের রাজনীতিতে সুপরিচিত।
বিজ্ঞজনরা মনে করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রণালয় রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমের পরিবেশ, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতার সঙ্গেও এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে সাংবাদিকদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা সাংবাদিকবান্ধব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন—এমন আশা করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। একই সঙ্গে তথ্যপ্রবাহ আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও প্রত্যাশা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের সামনে একদিকে যেমন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের কার্যকর যোগাযোগ আরও বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। দুই মন্ত্রীর সৎ উদ্দেশ্য, কর্মদক্ষতা ও সাহসী ভূমিকা যদি বাস্তব কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়, তাহলে তথ্যমন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।
দায়িত্ব পালনের শুরুতেই দুই মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের উন্নয়নের বিষয়ে আগ্রহের যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের কথা বলার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায়ও দুই নেতা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
সব মিলিয়ে, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে ঘিরে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। তাদের অভিজ্ঞতা, সততা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়ে তথ্যমন্ত্রণালয়ে নতুন গতি আসবে এবং একটি আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।