ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৩:১৬:১৭ AM

রেল প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
03-09-2026 02:59:30 PM
রেল প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যমুনা রেলসেতু, কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু এবং সিডিআরপি (CDRP)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি বাস্তবায়ন ও অর্থ পরিশোধে অনিয়মের পাশাপাশি রেলওয়ের সরকারি জমি দখলের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট নথি, অডিট আপত্তি ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় এসব অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অভিযোগের তীর রেলওয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দিকে। বিশেষ করে যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যমুনা রেলসেতুতে ৩৪ অডিট আপত্তি
যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পে অডিট বিভাগের বিশেষ নিরীক্ষায় মোট ৩৪টি গুরুতর আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব আপত্তিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিট আপত্তি অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কাজের পরিমাণ কমানো এবং ইউনিট রেট বাড়িয়ে ঠিকাদারকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উচ্চহারে চুক্তি করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ নিশ্চিত না করেই ৪০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ড্রয়িং, ডিজাইন ও বিওকিউ (BOQ) ছাড়াই ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় এবং ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের নামে অস্বাভাবিক ব্যয়ের মাধ্যমে আরও ১১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে প্রকল্প এলাকায় ব্যবহারের জন্য জাপান থেকে আনা কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি (Luxury Vehicles) নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব গাড়ির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ বর্তমানে দুদক অনুসন্ধান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালুরঘাটে যোগ্যতা না মেনেই দরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ
চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ‘টিম লিডার’ পদের জন্য দরপত্রে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে ‘বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ‘স্যামবো-জেভি’ (SAMBO-led JV) নামের প্রতিষ্ঠানটি এমন একজন ব্যক্তির সিভি জমা দেয়, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং’।

অভিযোগকারীদের দাবি, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) এবং দাতা সংস্থা ইডিসিএফের (EDCF) নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো দরদাতার মৌলিক যোগ্যতার (Material Qualification) ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ নেই।

তবে সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট একটি গোপনীয় চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দরদাতার কাছে জানতে চান, কৃষি প্রকৌশলের ওই ডিগ্রিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমমান হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না।

এ ঘটনায় একজন দরদাতা সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষি প্রকৌশল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পৃথক বিষয়। ফলে দরপত্রে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য একটি ডিগ্রিকে সমমান হিসেবে গ্রহণের চেষ্টা নিয়মবহির্ভূত।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দরদাতা বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিডিআরপিতে ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ
সিডিআরপি (CDRP) প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নেও দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ম্যাক্স (MAX) নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের আর্থিক সক্ষমতায় ঘাটতি থাকার পরও তাদের কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের ITB, BDS এবং Section 3 অনুযায়ী একাধিক কন্ট্রাক্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘least-cost combination’ পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা। অর্থাৎ, কোনো দরদাতা একাধিক কন্ট্রাক্টের জন্য দর দিলে এবং একই সঙ্গে একাধিক কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড়ের প্রস্তাব দিলে, কোন কন্ট্রাক্ট বা কন্ট্রাক্টের সমন্বয়ে সরকারের সামগ্রিক ব্যয় সবচেয়ে কম হবে, তা বিবেচনা করার কথা।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক কন্ট্রাক্টে সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে একাধিক কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পর্যাপ্ত আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করার নিয়ম রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিডারের গড় বার্ষিক নির্মাণ টার্নওভার, আর্থিক সক্ষমতা বা তহবিল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জনবলের সম্মিলিত সক্ষমতা বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের ITB 37.4-এ WD-1 ও WD-2—এই দুটি কন্ট্রাক্ট একসঙ্গে পেতে হলে দরদাতার সম্মিলিত বার্ষিক টার্নওভার (AACT) ২২০ মিলিয়ন ডলার থাকার শর্ত রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যাক্সের টার্নওভার ২০৮.১৭ মিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় টার্নওভার কম থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটিকে দুটি কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদের সামান্য ঘাটতিতে বাদ, ম্যাক্সের ক্ষেত্রে ছাড়?
সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও দেখা যায়, অন্যান্য দরদাতার ক্ষেত্রে Completion Certificate, SIL-4/User Certificate অথবা Test Report-এর মতো বিষয়ে ঘাটতির কারণে তাদের টেকনিক্যালি ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ম্যাক্সের ক্ষেত্রে মৌলিক ও বাধ্যতামূলক যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তাদের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খসড়া নথিতে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা সাশ্রয়ের যুক্তি দেখিয়ে ম্যাক্সকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) সম্মতি চাওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা না থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানকে একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ দেওয়া হলে প্রকল্পের নির্মাণমান, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে ম্যাক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তাদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রেলের জমিতে ৫৬০টির বেশি স্থায়ী দোকান
মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি রেলওয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

রেলওয়ের ‘ওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্কস ম্যানুয়াল’-এর ২০৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেলওয়ের জমির সীমানা রক্ষা ও দখল প্রতিরোধে বিভাগীয় প্রকৌশলীদের (DEN) গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা একজন জেলা প্রশাসকের (DC) সমপর্যায়ের বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় রেলওয়ের বিপুল মূল্যের জমিতে ৫৬০টির বেশি স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রকৌশলী/১-এর ওপর রেলওয়ের ভূমি ও সীমানা রক্ষা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধের দায়িত্ব থাকলেও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এবং রেল কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোহারার বিনিময়ে রেলের জমিতে এসব অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। তবে মাসোহারার অভিযোগসহ এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আল ফাত্তাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এসব অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ের এডিজি-১ ও যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী: সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়।

তিনি বলেন, রেলওয়ের দুর্নীতির বিষয়টি সরকারও জানে। তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই প্রকল্পে অডিট আপত্তি, দরপত্রের যোগ্যতা, ঠিকাদারের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারি অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে শুধু সরকারের আর্থিক ক্ষতিই নয়, প্রকল্পের গুণগত মান ও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তাই অডিট আপত্তিগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি, দরপত্র মূল্যায়নের নথি যাচাই, ঠিকাদারদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন এবং রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

রেলওয়ের মেগা প্রকল্প ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।