হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও জ্ঞানী মানুষ হিসেবে পরিচিত রাজনীতিক আন্দালিব রহমান পার্থ দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনতে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সাবেক মেয়র ও মন্ত্রীর সন্তান পার্থ দেশের রাজনীতিতে একজন স্মার্ট, মেধাবী ও যুক্তিনির্ভর বক্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বক্তব্যে যেমন রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতিফলন দেখা যায়, তেমনি বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিসংগত অবস্থান তুলে ধরার দক্ষতাও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল এই রাজনীতিকের কর্মস্পৃহাও বেশ আলোচিত। ধীরস্থিরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর গতি অত্যন্ত দ্রুত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ তার কর্মতৎপরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে পার্থ দ্রুত কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গত কয়েক মাসে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের কিছু কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কল্যাণ, গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা এবং এই খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজছেন তিনি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও কিছু পদে রদবদল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হবে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ও জরুরি। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সুবিধা-অসুবিধা, গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল পরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা এবং তথ্য ও গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন পার্থ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকদের একটি অংশ। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ দায়িত্বে এনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।
সব মিলিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কার্যকর ও সচল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।