ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
সময়: ০৬:১৮:৩০ PM

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে অনিয়ম ও প্রভাব

জাফর ইমাম
27-06-2026 04:49:45 PM
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে অনিয়ম ও প্রভাব

দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে কিছু বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরার প্রয়োজন অনুভব করছি। কারণ আমার বিশ্বাস, একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দেশের জনগণের জানা জরুরি। আমি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন আজীবন সদস্য এবং প্রায় ৩৪ বছর দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই এই বক্তব্য তুলে ধরছি।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে জনাব আজিজুল ইসলামকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এই নিয়োগকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল।

আমার অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর জনাব আজিজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ ও মানবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। তিনি যুব স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় যুব রেড ক্রিসেন্টের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব আজও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আমি এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হই। আমার অভিযোগ, অবসরের মাত্র চার মাস আগে আমাকে তিনবার বদলি করা হয় এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে চাকরি থেকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়। তবে দীর্ঘ কর্মজীবনে আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি।

আমার আরও অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তৎকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান, ট্রেজারারসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদত্যাগ করেন বলে আমি জানতে পারি।

এছাড়াও আমি অভিযোগ করছি, ভিন্নমত পোষণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, চাকরিচ্যুতি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হয়।

আমার দাবি, প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, যা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর জন্য অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে উল্লিখিত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত। যদি আমার অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয়, তবে তার দায়ভার আমি গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আর যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।

আমার বক্তব্যের সমর্থনে আমার কাছে সংরক্ষিত কিছু বার্তা, নথি ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, যা প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

আমি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে নয়; বরং একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানের সুনাম, নিরপেক্ষতা ও ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার কামনা করছি।