ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬,
সময়: ০৯:২৮:০৮ PM

সব স্তরে শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করছে সরকার

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
17-04-2026 07:48:07 PM
সব স্তরে শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করছে সরকার

দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’ বৃত্তির হার বাড়ানো হবে। দীর্ঘ ১০ বছর পর বৃত্তির হার পুনর্র্নিধারণ করতে যাচ্ছে সরকার।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন বার্ষিক অনুদান আগের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। এতে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। তবে অর্থ বিভাগের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তে শিক্ষাখাতে ঝরে পড়ার হার কমার পাশাপাশি মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১) মো. সাইদুর রহমান জানান, সম্প্রতি এক পর্যালোচনা সভায় দেশের সব ধরনের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) পূর্ণাঙ্গ ও সংশোধিত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাউশি প্রস্তাব পাঠালে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হবে। পরে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগের বরাদ্দ পেলেই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনা সভায় মাউশির অধীন সব ক্যাটাগরির বৃত্তির (পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও পেশামূলক বৃত্তি) মাসিক হার ও এককালীন বার্ষিক অনুদান দ্বিগুণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসব বৃত্তির হার নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ১০ বছর পর বৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।সভাসূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত সভায় শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিল রেখে প্রাথমিক বৃত্তি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকসহ সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। অর্থ বিভাগের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার বাড়াতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যেসব শিক্ষার্থী মেধার স্বাক্ষর রাখছেন, তাদের সব ধরনের প্রণোদনা দিতে প্রস্তুত বর্তমান সরকার। বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। মেধাবীদের শিক্ষার স্রোতে ধরে রাখতে আমরা এ সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা করছি।’বাড়ছে মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান
মাউশির খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে বৃত্তির মাসিক হার ও এককালীন অনুদান দ্বিগুণ করা হবে। প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ থেকে ৪৫০ টাকা। 

জুনিয়র (জেএসসি) মেধাবৃত্তি ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। এসএসসি মেধাবৃত্তি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এইচএসসি মেধাবৃত্তি ৮২৫ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ থেকে ৭৫০ টাকা। স্নাতক (সম্মান) মেধাবৃত্তি ১ হাজার ১২৫ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এককালীন বার্ষিক অনুদানও দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকে ২২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা, জুনিয়রে ৫৬০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকা, এসএসসিতে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এইচএসসিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও তাদের আওতাধীন বৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণের প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। সংখ্যালঘু, উপজাতি, দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক এবং পেশামূলক উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও বাড়তি হার কার্যকর হবে।

মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন বৃত্তির অর্থ অপরিবর্তিত ছিল। বিগত সরকার এ বিষয়ে নজর দেয়নি। নতুন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগিরই প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

সূত্র: বাসস