ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
সময়: ০২:১৫:০৩ PM

শেরপুরের রাজাপাহাড়ের বর্ননা দিচ্ছেন মনজুরুল হক

গল্প’নেহা বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব:২২ এর বিতর্ক,২৬ এর নতুন দৃষ্টান্ত বিয়ে বিতর্ক: খালাস পেলেন নাসির-তামিমা ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা,নদীবন্দরে সতর্কতা অশান্ত মানিকগঞ্জ:চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও মব নেত্রকোনায় রোহিঙ্গা নাগরিক সন্দেহে যুবক আটক ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ অপচয় ও দুর্নীতি রোধে তদারকি প্রধানমন্ত্রীর প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ মোহাম্মদপুরে মিনিটেই শেষ হয় ছিনতাই খুলনায় বেপরোয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিশ্বকাপে বিলি করা হবে ৭০ লাখ কনডম! ৩৮৯০ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক:যুবদল সভাপতি নারী উদ্যোক্তাবান্ধব বাজেট এখন সময়ের দাবি ইসরায়েল ও ইরানকে থামতে বললেন ট্রাম্প ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, নারীসহ ৩ জনের সাজা রুহুল কবির রিজভী:ত্যাগ,সংগ্রাম ও আনুগত্যের প্রতীক স্বাস্থ্যে বাড়তি বরাদ্দ, চিকিৎসার চিত্র বদলাবে কতটা পুশ-ইন ঠেকাতে ভারতকে দফায় দফায় চি‌ঠি শামসুজ্জামান দুদু:পদ নয়,আদর্শই তাঁর প্রাপ্তি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে আসছে সঞ্চয়পত্র গণমাধ্যমের কেউ অপকর্মে জড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সদস্যদের বক্তব্য হবে গণমুখী:শফিকুর রহমান পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর ভারতের জেন-জি কী চায়, মোদীর গদি কি টিকবে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি: মাছউদ
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু সয়াবিন তেলের দাম বাড়লো ৯ টাকা শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় শেষ জীবনে খণ্ডকালিন শিক্ষকদের অত্যাচারে অধ্যক্ষের পদত্যাগ পর্তুগাল লিসবনে গঠিত হলো সাহিত্য সংসদ সমকাল সম্পাদক হলেন এ হোসেন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে নিত্যপন্য পর্তুগালে কুমিল্লা উত্তর কমিউনিটির কমিটি গঠন বিদেশেও ক্রিকেট প্রেমীরা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে ইফাত মতিউরেরই ছেলে:নিজাম হাজারী প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরকে ফাঁসানোর চেষ্টা মেহেরপুরে জনতা ব্যাংক শাখা উদ্বোধন বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তলব আজ লাবলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন শিরীন চৌধুরীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ! খালেদা’র রোগমুক্তি কামনায় পর্তুগাল স্বেচ্ছাসেবক দল বিদায় দ. আফ্রিকা টিকলো বাংলাদেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ ‘নিউ ইয়ার এ জিতবে সবাই’ রিয়েলমি কেনার সুযোগ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো বাজারে ঊর্মি গ্রুপের নতুন পণ্য ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট সভাপতি পার্থ ও সম্পাদক রোহান বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো নির্বাচনকে সামনে রেখে মত বিনিময় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুলকে গণতন্ত্র এখনো ‘অটুট আছে’বাইডেন

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়; বাংলাদেশে এটি কোটি মানুষের আবেগ, উন্মাদনা ও উৎসবের নাম। চার বছর পরপর আয়োজিত এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের অভিজাত এলাকাতেও তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয় ও সম্প্রচার প্রক্রিয়াও বারবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নেওয়া দুটি ভিন্ন সিদ্ধান্ত এখন জনমনে তুলনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, চার বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়েছে বলে সরকারের দাবি। ফলে অতীতের ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে, ১৬ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিটিভির জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব সংগ্রহ করবে বিটিভি।

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কারণ, তমা কনস্ট্রাকশন দেশের একটি পরিচিত নির্মাণ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্ব ব্যবসার সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ফলে অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হয় যে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ ক্রীড়া আসরের সম্প্রচারস্বত্ব ব্যবসায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হলো।

তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব প্রথমে ফিফা থেকে কিনেছিল ভারতের ভায়াকম-১৮। এরপর সেটি একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাত ঘুরে নরওয়েস্টার ওমর কে স্পোর্ট জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাছে যায়। পরবর্তীতে সেই স্বত্ব কিনে নেয় তমা কনস্ট্রাকশন। শেষ পর্যন্ত বিটিভি তমার কাছ থেকেই সম্প্রচারস্বত্ব সংগ্রহ করে।

এই দীর্ঘ মধ্যস্বত্বভোগী শৃঙ্খল শুরু থেকেই সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যত বেশি মধ্যস্থতাকারী যুক্ত হবে, ব্যয় তত বাড়বে। আর সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে রাষ্ট্রকে। প্রশ্ন ওঠে, সরাসরি উৎস বা স্বত্বধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ না করে কেন এতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হলো।

বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন জানা যায়, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের ৬৪টি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য বিটিভিকে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। অর্থ বিভাগ প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার একটি ব্যয় কাঠামো বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই সীমা অতিক্রম করে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ বিভাগ তখন স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, বিশ্বকাপ শুরুর আগে সময় খুব কম থাকায় বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সীমিত ছিল। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের সময়সূচি বহু বছর আগেই নির্ধারিত থাকে। ফলে শেষ মুহূর্তের সময়সংকটকে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য যুক্তি হিসেবে দেখানো কঠিন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তমা কনস্ট্রাকশনের ভূমিকা। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আতাউর রহমান ভুইয়া, যিনি মানিক নামেও পরিচিত, তখন দাবি করেছিলেন যে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে তাদেরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়েছে এবং ৯৮ কোটি টাকার চুক্তি অস্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেখানে ব্যবসার সুযোগ থাকবে, সেখানে অংশগ্রহণ করাই স্বাভাবিক।

তবে সমালোচকেরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। তাদের প্রশ্ন ছিল, কীভাবে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সম্প্রচারস্বত্বের বাজারে প্রবেশ করল এবং কেন রাষ্ট্র সরাসরি উৎস থেকে স্বত্ব সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও আলোচনায় আসে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

২০২২ সালের পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা বহু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর কখনোই জনসমক্ষে আসেনি। বিশেষ করে কেন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে স্বত্ব কিনতে হলো, কেন ব্যয় এতটা বৃদ্ধি পেল এবং কেন আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি—এসব প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

চার বছর পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে বলে দাবি করছে। এবার বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ। ভ্যাট ও অন্যান্য কর যুক্ত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারের দাবি অনুযায়ী এই অর্থের বড় অংশই বিজ্ঞাপন, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে সম্প্রচার অধিকার বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এখানেই ২০২২ ও ২০২৬ সালের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে ৬৪টি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। অথচ ২০২৬ সালে ১০৪ ম্যাচের সম্প্রচারস্বত্বের জন্য ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। যদিও দুটি বিশ্বকাপের বাজার বাস্তবতা, বাণিজ্যিক মূল্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নয়, তবুও এই ব্যয়ের পার্থক্য স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, সরাসরি উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্প্রচারস্বত্ব সংগ্রহের নীতি গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ক্রয়ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠারও একটি উদাহরণ।

বর্তমান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা ও অস্বচ্ছতার কারণেই ব্যয় বেড়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সম্প্রচারস্বত্ব কেনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে সরকারের এই সাফল্যের দাবির পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার ক্ষেত্রে আরও প্রাতিষ্ঠানিক, প্রতিযোগিতামূলক এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। যাতে কোনো ধরনের ব্যক্তি-নির্ভর সিদ্ধান্ত, মধ্যস্বত্বভোগী প্রভাব কিংবা অস্বচ্ছতার সুযোগ না থাকে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের উদ্যোগটি ২০২২ সালের বিতর্কিত প্রক্রিয়ার বিপরীতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। একদিকে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী, উচ্চ ব্যয় এবং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের অভিযোগ; অন্যদিকে রয়েছে সরাসরি ক্রয়, তুলনামূলক কম ব্যয় এবং স্বচ্ছতার দাবি।

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন কোটি মানুষ মাঠের লড়াই উপভোগ করার অপেক্ষায়, তখন পর্দার আড়ালের এই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গল্পটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ বিষয়টি শুধু ফুটবল দেখার নয়; এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার, জবাবদিহি এবং সুশাসনের প্রশ্ন। জনগণের করের অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।

২০২২ সালের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ২০২৬ সালের নতুন উদ্যোগ তাই কেবল দুটি ভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দুটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্বের এই অধ্যায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

পরনে নেই প্রথাগত গেরুয়া বসন, হাতে নেই চিরাচরিত একতারা। তবুও যখন বেহালার ছড় টানেন আর কণ্ঠ ছাড়েন, তখন শ্রোতারা হারিয়ে যান অন্য এক ভাবে। তিনি তানিয়া সরকার। সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় এক বাউল শিল্পী, যিনি চিরায়ত প্রথার বাইরে গিয়েও সুরের জাদুতে জয় করেছেন লাখো ভক্তের হৃদয়।
​সুরের আলোয় নুসরাত থেকে তানিয়া
​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্ম নেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধামরাইয়ে। জীবনের মোড় বদলে যায় যখন তিনি বাউল গানের দীক্ষা নেন। তার প্রথম গানের গুরু বাবা তরিকুল ইসলাম তোরাপ। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতেন তিনি। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ওস্তাদ সুনিল সরকারের কাছে বাউল গানের গুরুমুখী বিদ্যায় শিক্ষিত হন। গুরুর দেওয়া ‘তানিয়া সরকার’ নামেই আজ তিনি দেশের সংগীতাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
​করোনা জয় ও ডিজিটাল বিপ্লব
​২০২০ সালে পেশাদার যাত্রা শুরু করলেও বিশ্বব্যাপী মহামারী তানিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। কিন্তু সুর যার রক্তে, তাকে থামানো দায়। প্রতিকূল সময়ে অনলাইনে শুরু করেন গানের আসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গায়কী ও বেহালার সুর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালে এসে তার গাওয়া ‘ও রাধে ও রাধে’ এবং ‘কলিজা কাটা বিচ্ছেদ’ গানগুলো ইউটিউব ও টিকটকে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরছে।
​স্বামী যখন অনুপ্রেরণার সারথি
​তানিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি তার স্বামী মো: আলহাজ হোসেন। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও এখন তিনিই তানিয়ার প্রধান দিকনির্দেশক। কোন গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে, কোন মায়াবী হাসিতে মঞ্চ মাতাবে—সব পরিকল্পনাতেই থাকে স্বামীর অনুপ্রেরণা। ধামরাই সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে পেশা হিসেবে নিয়ে তানিয়া প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।
​স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়ার
​চ্যানেল আই-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় মেলা কিংবা স্টেজ শো—সবখানেই তানিয়ার পদচারণা। বাউল, বিচ্ছেদ, লালনগীতি কিংবা পল্লীগীতি—সব ধরণের গানেই তিনি সমান পারদর্শী। তবে তানিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন:
​"দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের তানিয়া সরকার বানিয়েছে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কোনো একদিন বাংলার এই শেকড়ের সুর বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।"

​বেহালার তারে মায়ার জাল বুনে তানিয়া সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাউল হওয়া মানে শুধু বেশভূষা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে সুরের সাধনা করা। অদম্য এই শিল্পী এখন কেবল তানিয়া নন, তিনি বাংলার লোকজ সংগীতের এক নতুন আশার নাম।