ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০২:৫৫:৪১ AM

শেরপুরের রাজাপাহাড়ের বর্ননা দিচ্ছেন মনজুরুল হক

কালবেলার অস্ট্রেলিয়া কান্ট্রি এডিটর আবদুল মতিন রাসেলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে খোকা-আব্বাস মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য লাঞ্চ বিল ১১৩ কোটি, অডিটে আপত্তি বন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল নিখোঁজ শিশুদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক:আত্মবিকাশ থেকে সভ্যতার অগ্রযাত্রা নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু ডিবি পরিচয়ে যাত্রাবাড়ীতে নানা অভিযোগ মেরুল বাড্ডায় ১১ একর রাজউকের জমি বেদখল দুই তরুণ নেতার সমন্বয়ে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য সমবায়ে দুর্নীতির অভিযোগ, কাঠগড়ায় নবীরুল জনপ্রিয় ও দক্ষদের কাজে লাগানোর আহ্বান ঢাকা উত্তর বিএনপিতে নেতৃত্ব বদলের আভাস জেমস: সুরে-সুরে এক প্রজন্মের হৃদস্পন্দন নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি না হয় দুদকে আইনের শাসন সবার জন্য সমান: প্রধানমন্ত্রী বদলির পরও বহাল আফজালের প্রভাব ৯ গোল হজম আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ ফারুকের রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় আমিরের বার্তা স্বৈরাচার ও গুপ্ত এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে খেলনা,আনছে ১ কোটি টাকার ড্রোন স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বামী তিন মুসলিম কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চট্টগ্রাম–কুনমিং সড়ক বাস্তবায়নে মিয়ানমারই প্রধান চ্যালেঞ্জ ‘কটূক্তি পরেও শিক্ষককে ছেড়ে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বেনামে বন্ড ব্যবসা: অভিযোগের মুখে এনবিআর সদস্য জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান: গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থের বার্তা
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু সয়াবিন তেলের দাম বাড়লো ৯ টাকা ঢাকা জেলায় সাভারসহ তিন থানায় নতুন ওসি শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় শেষ জীবনে বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল সমকাল সম্পাদক হলেন এ হোসেন খণ্ডকালিন শিক্ষকদের অত্যাচারে অধ্যক্ষের পদত্যাগ পর্তুগাল লিসবনে গঠিত হলো সাহিত্য সংসদ শাহরুখ হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন! মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে নিত্যপন্য পর্তুগালে কুমিল্লা উত্তর কমিউনিটির কমিটি গঠন ইফাত মতিউরেরই ছেলে:নিজাম হাজারী বিদেশেও ক্রিকেট প্রেমীরা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে মেহেরপুরে জনতা ব্যাংক শাখা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ আজ লাবলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরকে ফাঁসানোর চেষ্টা নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তলব তিন দেশে ১০২ কোটি পাচারের অভিযোগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ দিনা মন্ডলের কন্ঠে 'মনে রইলো মনের কষ্ট' খালেদা’র রোগমুক্তি কামনায় পর্তুগাল স্বেচ্ছাসেবক দল শিরীন চৌধুরীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ‘নিউ ইয়ার এ জিতবে সবাই’ রিয়েলমি কেনার সুযোগ বিদায় দ. আফ্রিকা টিকলো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট সভাপতি পার্থ ও সম্পাদক রোহান বাজারে ঊর্মি গ্রুপের নতুন পণ্য

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পথচলা শেষ হলো বড় ব্যবধানে হেরে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হেরেছে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ হেরে হতাশাজনকভাবে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করেও ১-০ গোলে হারে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল থমাস ডুলির দল।

ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ কিছুটা গোছানো ফুটবল খেললেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে ওলে রোমেনির পাস থেকে লে বেকার গোল করে এগিয়ে দেন ইন্দোনেশিয়াকে। ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

৩২তম মিনিটে রিজকি রিদোর পাস থেকে আরও এক গোল পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৩৬তম মিনিটে অবশ্য একটি গোল শোধ করে বাংলাদেশ। সুকির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন।

তবে সেই গোলের পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। এক মিনিট পরই নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লে বেকার। ৪২তম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলও করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল হজম করে বাংলাদেশ।

ফলে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ সামলাতে পারেনি জামাল-হামজাদের দল। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এই হারে আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হলো বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুইবার বল পাঠাতে পারলেও মোট ১৩ গোল হজম করেছে দলটি।

সম্প্রতি জেমসের প্রাক্তন স্ত্রী রথী মাছরাঙা টিভিতে এসে অভিযোগ করেছেন, সন্তানসহ তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। রথী যখন জেমসকে বিয়ে করেন, তখন তিনি মডেলিং ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর তিনি নিজের ক্যারিয়ার থেকে সরে এসে সংসার ও স্বামীর পাশে থাকার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অথচ একসময় সেই সম্পর্কের পরিণতি হয়েছে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘটনায়।

এটি নিছক একটি ব্যক্তিগত দাম্পত্যের গল্প নয়; বরং আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বৃহত্তর কাঠামোর প্রতিচ্ছবি। ভালোবেসে বিয়ে করা, সন্তান নেওয়া, স্ত্রীর ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়া কিংবা তাকে সংসারের দায়িত্বে আবদ্ধ করা এবং পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে দায়ের ভারও নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া—এই প্রবণতা আমাদের সমাজে নতুন নয়।

আমাদের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের দিকে তাকালেও এমন অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিন আহমেদের দাম্পত্যের গল্প কিংবা শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা সময়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে—একটি সম্পর্কে নারীর ত্যাগ, শ্রম ও আত্মপরিচয়ের মূল্য কতটা স্বীকৃতি পায়?

অন্যদিকে, বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, কীভাবে তার স্ত্রী নিজের মেধা ও ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সামলেছেন। এ ধরনের ত্যাগের গল্পে সমাজ সহজেই আবেগাপ্লুত হয়, প্রশংসা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—গল্পটি যদি উল্টো হতো? যদি বলা হতো, একজন স্ত্রী তার নিজস্ব ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বামী কীভাবে তাকে সহযোগিতা করেছেন, তার সাফল্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সেই গল্প কি একইভাবে প্রশংসিত হতো?

যতদূর জানা যায়, আফজাল হোসেনের স্ত্রীর একাডেমিক ও পেশাগত যোগ্যতাও উল্লেখযোগ্য। তবু আমাদের সামাজিক কাঠামোয় ‘ত্যাগী স্ত্রী’র গল্প যতটা শ্রুতিমধুর, ‘নিজের সাফল্য ধরে রেখে সুখী দাম্পত্যে থাকা স্ত্রী’র গল্প যেন ততটা আকর্ষণীয় নয়।

এই জায়গাতেই পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামোটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতারাও বিভিন্ন সময়ে টক শোতে নিজের ব্যক্তিজীবনের এমন কিছু ঘটনা বলেছেন, যেখানে সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বস্ততাকে প্রায় আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে—‘আমি এমনই, এটা জেনেই আমাকে গ্রহণ করতে পারলে করো, না হলে চলে যাও।’ অথচ একজন মানুষ সম্পর্কে প্রতারণা করলে সেখানে গর্ব নয়, বরং অনুতাপ, দায় স্বীকার এবং ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতিই প্রত্যাশিত হওয়া উচিত। কিন্তু সমাজে ক্ষমতাবান পুরুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই নৈতিক মানদণ্ডটিই অনুপস্থিত থাকে।

একইভাবে, ‘আমাকে স্যার ডাকবেন’—এই পরিচিত উক্তির সঙ্গে আলোচিত অভিনেতা ফারুক হোসেনও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, কীভাবে তিনি তার স্ত্রী ফুলিকে অভিনয় থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ ফুলিও ছিলেন প্রতিভাবান ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। প্রশ্ন উঠতেই পারে—যে নারী নিজের ক্যারিয়ারে তখন সম্ভাবনার জায়গায় পৌঁছাচ্ছিলেন, তাকে কেন ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে হবে? একজন পুরুষ যদি এমন কাউকে বিয়ে করেন, যার নিজস্ব প্রতিভা, পরিচয় ও ক্যারিয়ার রয়েছে, তাহলে দাম্পত্যের অর্থ কি তার আলো নিভিয়ে দিয়ে নিজের আলোকে আরও উজ্জ্বল করা?

কিছুদিন আগে অভিনেতা সোহেল খানও একটি টক শোতে স্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন—বাড়িতে গিয়ে বাজার, লবণ, তেল ইত্যাদি কিছুই পাওয়া যায় না, সবসময় ‘নাই নাই’ শুনতে হয়। অথচ প্রশ্ন হলো, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দায়িত্ব কেন কেবল স্ত্রীর? একজন পুরুষের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রীকে সন্তান ও সংসারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে বারবার বলতে হলে সেটিকে স্ত্রীর ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে পুরুষটির নিজের দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন ওঠা উচিত।

মিথিলা ও তাহসানের সম্পর্ক নিয়েও আমাদের সমাজের দ্বিচারিতা স্পষ্ট। তাহসানের সঙ্গে সংসার টিকিয়ে রাখতে না পারার কারণে মিথিলাকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমালোচনা ও গালাগালির মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কের বাইরে মিথিলার নিজের পরিচয়, শিক্ষা ও পেশাগত অর্জন রয়েছে। তিনি উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, পিএইচডি অর্জন করেছেন এবং নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও তার শিক্ষা ও পেশাগত অর্জন অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, তাহসানের ক্যারিয়ারও তার নিজের জায়গায় রয়েছে। কিন্তু মিথিলার সঙ্গে সংসার টিকিয়ে রাখতে না পারার দায়টি সমাজ যে একইভাবে তাহসানের ওপর চাপিয়ে দেয়নি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কেন বিচ্ছেদের দায় প্রায়শই নারীর চরিত্র, আচরণ বা ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, অথচ পুরুষের ক্ষেত্রে সেটি ‘সম্পর্কের ব্যর্থতা’ হিসেবে সহজেই মেনে নেওয়া হয়?

তাহসানের জনপ্রিয় কিছু গানের সঙ্গে মিথিলার লেখালেখির সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সেই অবদান যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে একজন শিল্পীর সাফল্যের পেছনে তার সঙ্গীর সৃজনশীল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটিও সামনে আসে। একজন নারী যখন পুরুষের সাফল্যে অবদান রাখেন, তখন তাকে ‘সহধর্মিণী’, ‘প্রেরণা’ কিংবা ‘ত্যাগী স্ত্রী’ বলা হয়; কিন্তু সেই নারী নিজে সফল হলে তার পরিচয়কে কতটা স্বাধীনভাবে দেখা হয়?

মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির কথিত প্রতিষ্ঠিত পুরুষদের এই আধিপত্য আসলে একটি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক লুপ। সময় বদলায়, মানুষের মুখ বদলায়, ঘটনার ধরন বদলায়—কিন্তু ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই একই থাকে। নারীর ত্যাগকে মহিমান্বিত করা হয়, অথচ তার স্বাধীনতা ও সাফল্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয় না।

এই কারণেই নোবেলের মতো প্রতিষ্ঠিত নারীলোলুপতার অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তি কিংবা প্রিন্স মামুনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা যে পরিমাণ মিডিয়া কাভারেজ ও জনমনোযোগ পান, তার তুলনায় একজন গবেষক, শিক্ষাবিদ বা একাডেমিশিয়ানের অর্জন অনেক কম আলোচিত হয়। বিতর্ক যেন বিনোদনের পণ্য; জ্ঞান, গবেষণা ও সাফল্য যেন নয়।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—নারীকে অনেক সময় একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে না দেখে ‘স্ত্রী’ নামের একটি সার্ভিস প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি রান্না করবেন, সংসার সামলাবেন, সন্তান বড় করবেন, স্বামী ও তার পরিবারকে দেখবেন, নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দেবেন—আর এই সবকিছুকে বলা হবে ‘ভালোবাসা’ ও ‘ত্যাগ’। কিন্তু সেই নারী একদিন নিজের জন্য বাঁচতে চাইলে, নিজের ক্যারিয়ারে ফিরতে চাইলে কিংবা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে তাকেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আমাদের সমাজে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, নারীর প্রতি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, তার সঙ্গে জনপ্রিয় সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের উপস্থাপনার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি। গান, নাটক, সিনেমা ও গণমাধ্যমে বছরের পর বছর পুরুষের আধিপত্য, নারীর সহনশীলতা এবং ‘ত্যাগী স্ত্রী’র আদর্শকে রোমান্টিসাইজ করা হয়েছে। ফলে অনেক অন্যায় আচরণও সামাজিকভাবে স্বাভাবিক বলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

ভালোবাসা কখনো কারও ক্যারিয়ার কেড়ে নেওয়ার লাইসেন্স হতে পারে না। বিয়ে কোনো নারীর স্বাধীনতা বাতিল করার চুক্তি নয়। সন্তান জন্ম দেওয়া মানে একজন নারীর নিজের পরিচয় বিসর্জন দেওয়া নয়। আর একজন পুরুষের সাফল্যের পেছনে একজন নারীর শ্রম থাকলে সেটিকে কেবল ‘স্ত্রীর দায়িত্ব’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়।

আমাদের গল্প বদলাতে হবে।

‘ত্যাগী স্ত্রী’ নয়—আমরা এমন সম্পর্কের গল্প শুনতে চাই, যেখানে দুজন মানুষই একে অপরের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও স্বাধীনতাকে সম্মান করে। যেখানে স্বামীর সাফল্যে স্ত্রীর অবদান যেমন স্বীকৃত হয়, তেমনি স্ত্রীর সাফল্যেও স্বামী গর্বিত হন। যেখানে প্রতারণা করলে পুরুষও জবাবদিহির মুখোমুখি হন, আর বিচ্ছেদ হলে নারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী বানানো হয় না।

কারণ স্ত্রী কোনো আজীবন সার্ভিস প্যাকেজ নন। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ—তার নিজের স্বপ্ন আছে, ক্যারিয়ার আছে, মেধা আছে, পরিচয় আছে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আছে।