ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০২:৫৪:২২ AM

শেরপুরের রাজাপাহাড়ের বর্ননা দিচ্ছেন মনজুরুল হক

৯ গোল হজম আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ ফারুকের রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় আমিরের বার্তা স্বৈরাচার ও গুপ্ত এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে খেলনা,আনছে ১ কোটি টাকার ড্রোন স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বামী তিন মুসলিম কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চট্টগ্রাম–কুনমিং সড়ক বাস্তবায়নে মিয়ানমারই প্রধান চ্যালেঞ্জ ‘কটূক্তি পরেও শিক্ষককে ছেড়ে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বেনামে বন্ড ব্যবসা: অভিযোগের মুখে এনবিআর সদস্য জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান: গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থের বার্তা জাতিসংঘে জাইমার চাকরি, সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই আ-লীগ-বিএনপি মিলে প্লট দখলের মহা উৎসব প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা দিবে সরকার মাস না যেতেই আবার বান্দরবানে শাহীন নির্বাচন ছাড়াই ১৭ বছর উত্তরা ব্যাংক সিবিএ আসামি হয়েও স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান নাছির পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আর ফেরে না: আমান মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রশংসা রাষ্ট্রপতির ইউপিএলে এসে কিছু ব্যক্তির আক্রমণাত্মক আচরণ ”নাশকতাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে” অ্যাসিটেট টো আমদানির নামে ৩২৪ কোটি রাজস্ব ফাঁকি শাহজালালে কার্গো অব্যবস্থাপনা,বাড়ছে ক্ষতি রেড ক্রিসেন্টে অস্থিরতা, নেতৃত্ব ও নিয়োগ নিয়ে হ য ব র ল বিপিডিবির সেই নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত ডেঙ্গুতে আজ মৃত্যু-৮, সেপ্টেম্বরেই ১৩৬ জন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে গুরুত্বারোপ কীভাবে চেয়ার ধরে আছেন শাহনেওয়াজ? ৩৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, জব্দ নথি
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু সয়াবিন তেলের দাম বাড়লো ৯ টাকা ঢাকা জেলায় সাভারসহ তিন থানায় নতুন ওসি শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় শেষ জীবনে বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল সমকাল সম্পাদক হলেন এ হোসেন খণ্ডকালিন শিক্ষকদের অত্যাচারে অধ্যক্ষের পদত্যাগ পর্তুগাল লিসবনে গঠিত হলো সাহিত্য সংসদ শাহরুখ হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন! মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে নিত্যপন্য পর্তুগালে কুমিল্লা উত্তর কমিউনিটির কমিটি গঠন ইফাত মতিউরেরই ছেলে:নিজাম হাজারী বিদেশেও ক্রিকেট প্রেমীরা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে মেহেরপুরে জনতা ব্যাংক শাখা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ আজ লাবলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরকে ফাঁসানোর চেষ্টা নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তলব কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ! তিন দেশে ১০২ কোটি পাচারের অভিযোগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ খালেদা’র রোগমুক্তি কামনায় পর্তুগাল স্বেচ্ছাসেবক দল দিনা মন্ডলের কন্ঠে 'মনে রইলো মনের কষ্ট' শিরীন চৌধুরীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিদায় দ. আফ্রিকা টিকলো বাংলাদেশ ‘নিউ ইয়ার এ জিতবে সবাই’ রিয়েলমি কেনার সুযোগ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বেয়ারস্টো ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট সভাপতি পার্থ ও সম্পাদক রোহান বাজারে ঊর্মি গ্রুপের নতুন পণ্য

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পথচলা শেষ হলো বড় ব্যবধানে হেরে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হেরেছে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ হেরে হতাশাজনকভাবে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করেও ১-০ গোলে হারে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল থমাস ডুলির দল।

ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ কিছুটা গোছানো ফুটবল খেললেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে ওলে রোমেনির পাস থেকে লে বেকার গোল করে এগিয়ে দেন ইন্দোনেশিয়াকে। ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

৩২তম মিনিটে রিজকি রিদোর পাস থেকে আরও এক গোল পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৩৬তম মিনিটে অবশ্য একটি গোল শোধ করে বাংলাদেশ। সুকির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন।

তবে সেই গোলের পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। এক মিনিট পরই নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লে বেকার। ৪২তম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলও করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল হজম করে বাংলাদেশ।

ফলে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ সামলাতে পারেনি জামাল-হামজাদের দল। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এই হারে আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হলো বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুইবার বল পাঠাতে পারলেও মোট ১৩ গোল হজম করেছে দলটি।

সংগীতের সুর আর মাটির গন্ধে মিশে থাকে বাউল গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সংগীতপিপাসু লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তরুণ শিল্পী সুমাইয়া সিকদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টুকটুকি বাউল’ নামে পরিচিত। ফরিদপুর জেলার ইশান গোপালপুর গ্রামের এই মেধাবী শিল্পী তার দরদভরা কণ্ঠের মাধ্যমে বাউল ও লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
​সংগীতের হাতেখড়ি ও অনুপ্রেরণা
তিন বোনের মধ্যে সবার বড় টুকটুকি। সংগীতের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ মূলত পারিবারিক আবহ থেকে পাওয়া। তার বাবা মো. টোকোন সিকদার ও মা রোজিনা বেগমের আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বড় শিল্পী হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের জগতে হাতেখড়ি টুকটুকির।
​এ বিষয়ে টুকটুকি বাউল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছোটবেলায় যখনই সুরের টান অনুভব করেছি, বাবা আমার পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। গান শুধু আমার নেশা নয়, গানেই আমি প্রকৃত শান্তি খুঁজি। মানুষের ভালোবাসার যে সাগরে আমি ভেসেছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই আমার গানের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সব বয়সী মানুষের হৃদয়ে নিজের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে।”
​সংগ্রামের গল্প: মঞ্চে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
টুকটুকির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীতের প্রতি প্রবল টান থাকলেও তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমন অনেক রাত গেছে, যখন মঞ্চে দীর্ঘ সময় বসে থেকেও গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকদের অবহেলায় গান না গেয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শিল্পীসত্তা দমাতে পারেনি এই তরুণীকে। এই কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
​তিনি বলেন, “মঞ্চে বসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গান গাইতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে অনেক রাত কাঁদানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমাকে আরও সাধনা করতে হবে। সেই সব দিনগুলোই আমাকে আজকের এই দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
​গুরুর সান্নিধ্য ও শিক্ষা
টুকটুকির সংগীত সাধনার পথে প্রথম গুরু ছিলেন নিজামুদ্দিন লালনী। বর্তমানে তিনি সংগীতের তালিম নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত গুরু কাজী দলিলুদ্দীনের কাছ থেকে।
​গুরু কাজী দলিলুদ্দীন তার শিষ্যা সম্পর্কে বলেন, “টুকটুকির কণ্ঠের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত মায়া ও আধ্যাত্মিকতা আছে। তবে শুধু কণ্ঠই নয়, তার মধ্যে যা আছে তা হলো ‘ধৈর্য’। বাউল সাধনায় ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সে যে প্রতিকূলতা পার করে আজ উঠে এসেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। সে যদি নিয়মিত এভাবে সাধনা চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাউল গানের জগতে সে অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
​বাবার স্মৃতিচারণ করে বাবা মো. টোকোন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ে যখন ছোট, তখন থেকেই তার গলার আওয়াজ ছিল আলাদা। সে অনেক অবহেলা আর কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। আমার স্বপ্ন ছিল সে মানুষের শিল্পী হবে, আজ লাখো মানুষ তাকে চেনে, ভালোবাসে—এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।”
​পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চায় নিজেকে যেভাবে নিয়োজিত রেখেছেন টুকটুকি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টুকটুকি ২০২৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার কণ্ঠে লোকসংগীতের প্রতিটি কলি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিয়মিত পরিবেশনাগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে বাংলা মাটির গানের আবেদন আজও কতটা অটুট।
​নতুন এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পীর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, ফরিদপুরসহ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।